১৯৪০ থেকে ২০১৫। আজিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বয়স এখন ৭৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে হাজারো শিক্ষার্থী লেখাপড়া শেষ করে ছড়িয়ে পড়েছেন কর্মজীবনের নানা ক্ষেত্রে। সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখার শুরু যে বিদ্যালয় চত্বরে, সেখানেই পুরোনো শিক্ষার্থীদের একত্র করতে আয়োজন করা হয় পুনর্মিলনীর।
এ উপলক্ষে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ গোলাম মোরশেদ। সদস্যসচিব এস এম আক্কাছ উদ্দিন ও মোরশেদুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বেলা তিনটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আলোচনা সভা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের দেওয়া হয় দুস্থ মেধাবী শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা। মোড়ক উন্মোচন করা হয় স্মরণিকা মিলিত প্রাণের উৎসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম তৌহিদুল আলম ও রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শফিউল আলম। আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক কবির আহম্মদ, আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান, এস এম গিয়াস উদ্দিন, আলী আজম, সৈয়দ গোলাম মামুন, মোহাম্মদ রফিকুদ্দৌলাহ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, এখন যোগাযোগের অনেক নতুন পদ্ধতি রয়েছে। তবে কাছে না এলে একটা অসম্পূর্ণতা থেকে যায়। এই পুনর্মিলনী সবার মিলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের ১৯৮৯ সালের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, ‘এখানে এসে মনে হচ্ছে না আমাদের বয়স এখনো বেড়েছে। ছাত্রজীবনের সেই পুরোনো দিনগুলো যেন নতুন করে ফিরে পেয়েছি।’
রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন