বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের উয়ারস্টারের একজন বাণিজ্যিক চিত্রশিল্পী হার্ভি বল। স্মাইলি ফেইস, যাকে বাংলায় বলে মৃদু হাসির চেহারা, তিনি এঁকেছেন ১৯৬৩ সালে। সেই গোলাকার হলুদ রঙের চেহারা, দুটো গোল গোল চোখ ও একটি বক্র রেখার ঠোঁট যা হাসিকে নির্দেশ করে।

ওয়ার্ল্ড স্মাইল ডে ডটকম ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, দিন দিন তাঁর মৃদু হাসির ছবিটার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারে উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন হার্ভি বল। ছবিটার অনুকরণের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নতুন ছবি সৃষ্টিতে এর প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

সেই শঙ্কা থেকেই বিশ্ব মৃদু হাসি দিবসের ধারণাটা এসেছে। হার্ভি বল ভেবেছিলেন যে, বছরের একটি দিন আমাদের উৎসর্গ করা উচিত মৃদু হাসির জন্য। মৃদু হাসি বোঝে না কোনো রাজনীতি, এলাকা ও ধর্ম। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার বিশ্ব মৃদু হাসি দিবস হিসেবে পালিত হবে।

default-image

যেভাবে পালিত হয় দিবসটি

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো উদ্‌যাপিত হয় বিশ্ব মৃদু হাসি দিবস। এরপর থেকে তা প্রতিনিয়ত পালিত হচ্ছে এর উৎপত্তিস্থল উয়ারস্টার, ম্যাসাচুসেটসসহ সারা বিশ্বে।

ষ্টিভ বলের শহর উয়ারস্টারে দিনটি পালিত হয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এমনকি স্মাইল সার্টিফিকেট বা মৃদু হাসি সনদ দেওয়া হয় স্থানীয়দের। এ ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব হাসির চেহারা, বেলুন উড্ডয়ন, কনসার্ট, সার্কাস অনুষ্ঠান, মৃদু হাসির প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেখানে।

উয়ারস্টার ঐতিহাসিক জাদুঘরও এ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ ছাড়া বিশ্বে দুস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে খাদ্য বিতরণ, কাছের লোকজনকে ট্রিট দেয়, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে নানা আয়োজন করা হয়।

২০০১ সালে হার্ভির মৃত্যুর পর তাঁর নাম ও স্মৃতি স্মরণে গঠন করা হয় হার্ভি বল বিশ্ব মৃদু হাসি ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন প্রতিবছর বিশ্ব মৃদু হাসি দিবসের অফিশিয়াল স্পনসর। এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেই ওয়ার্ল্ড স্মাইল ডে ডটকম ওয়েবসাইটের জন্ম যেখানে বিশ্ব হাসি দিবস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ও স্টিভ বলের সাক্ষাৎকার রয়েছে।

default-image

দিবসটি আরও ঘটা করে উদ্‌যাপনের জন্য এবার হার্ভি বল বিশ্ব মৃদু হাসি ফাউন্ডেশন উদযাপনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিবসটির খবর, ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান করেছে। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক ও টুইটারে #worldsmileday হ্যাশট্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যাতে সব আয়োজনকারী একসঙ্গে দেখতে পারে যে কোথায় ও কীভাবে দিনটি পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন