বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর রংপুর উপশহরের সাগাড়া এলাকার নাসিম উদ্দিনের ছেলে শোয়েব সিনার সঙ্গে ভীমপুকুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া আকতারে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁদের দাম্পত্য কলহের জের ধরে সাদিয়া আকতার চলতি বছরের ২৪ মার্চ পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাহতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শোয়েব সিনাসহ সাতজনের নামে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি বোদা থানা–পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। পরে ৪ এপ্রিল বোদা থানা–পুলিশ মামলটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে গত ৩০ আগস্ট আসামিদের অব্যাহতি প্রদানের জন্য ১৭৩ ধারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

পরে মামলার বাদী পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করলে আদালত শুধু শোয়েব সিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। এরপর আসামি গত ১৪ অক্টোবর আদালত থেকে জামিন পান। ওই মামলায় রোববার ধার্য তারিখ থাকায় শোয়েব সিনা পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদারের আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।

দুপুরে শোয়েব সিনা হাজিরা দিয়ে আদালত থেকে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে বের হওয়ার সময় আগে থেকে বাইরে থাকা সাদিয়া আকতারসহ তাঁর লোকজন শোয়েব সিনাকে মারধর শুরু করেন এবং সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি আহত হন। এ সময় আদালত পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শোয়েব সিনাকে উদ্ধার করে এবং সাদিয়া আক্তারসহ চারজনকে আটক করে পঞ্চগড় সদর থানা–পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সামনেই আমার মক্কেল শোয়েব সিনাকে ওই তরুণীসহ কয়েকজন লোক মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।’ আইনজীবী আরও বলেন, সাদিয়া আকতারের সঙ্গে বিয়েতে শোয়েব সিনার অমত ছিল। শোয়েব ওই তরুণীকে তালাক দিলে তিনি নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ মিঞা বলেন, আদালত চত্বরে মারামারির ঘটনায় আদালত পুলিশ চারজনকে আটক করে থানায় দিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন