রাঙামাটিতে বিজয় দিবসে আদিবাসীদের দোকান ও বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান।

২৪ ডিসেম্বর শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। তার ওপর ভিত্তি করে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আদিবাসীরা তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছেন, বাঙালিদের আনারসবাগান কেটে ফেলার অজুহাতে ১৬ ডিসেম্বর রাঙামাটির নানিয়ার চরের সুরিদাশপাড়া, বগাছড়ি ও নবীন তালুকদারপাড়া জ্বালিয়ে দেয় বাঙালিরা। তাঁদের সহায়তা করতে সেনাসদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বলেও আদিবাসীরা প্রতিনিধিদলের কাছে অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো, হামলার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে সংসদে পাস এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচিভিত্তিক পরিকল্পনা করা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাষ্ট্রের ‘সদয় পৃষ্ঠপোষকতায়’ এ ঘটনা ঘটেছে। তারা সংখ্যায় কম ও দুর্বল বলেই বারবার এমন ঘটনা ঘটানো হয়। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ যে কারণেই ঘটুক, এ ঘটনা ফৌজদাির অপরাধ। প্রশাসন এটি দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর। আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক অজয় রায়, খুশী কবীর, পংকজ ভট্টাচার্য ও রোবায়েত ফেরদৌস। উপস্থিত ছিলেন রাশেদ রাইন, আনিসুর রহমান মল্লিক, দীপায়ন খীসা, মমতাজ লতিফ, নুমান আহম্মেদ খান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন