চলতি বছর আইএমও আয়োজন করছে নরওয়ে। নরওয়ের অসলো শহরে অবস্থিত অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরীক্ষা পর্ব। আইএমওতে এবার ১৮তম বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ গণিত দল।

বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলো সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এস এম এ নাহিয়ান, নটর ডেম কলেজের মো. আশরাফুল ইসলাম ফাহিম, সরকারি আনন্দমোহন কলেজের তাহজিব হোসেন খান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নুজহাত আহমেদ দিশা, নটর ডেম কলেজের তাহমিদ হামিম চৌধুরী ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মো. ফোয়াদ আল আলম। এ ছাড়া উপদলনেতা হিসেবে আছেন সাবেক আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের সদস্য আসিফ-ই-এলাহী, পর্যবেক্ষক হিসেবে তাহনিক নূর সামীন এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক বায়েজিদ ভূঁইয়া।

default-image

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে ৬৩তম আইএমওর জন্য ৬ সদস্যের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন করা হয়। দল নির্বাচন ও এর আনুষঙ্গিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

হেঁ‌টে হেঁটে শহর‌ দেখা

বাংলাদেশ দলের গাইড ফাহ্দ নেওয়াজ জানালেন, হোটেল থেকে পায়ে হেঁটে ২৫ থেকে ৩৫ মি‌নিটের পথের মধ্যেই শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দেখা যাবে। যদি কেউ হাঁটতে পছন্দ করেন, তাহলে এক চক্করেই যেন স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক স্থান-ভবন‌ হেঁটে দেখতে পারবেন। একি বলে? এক চক্করে কীভাবে একটা দেশের রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর দেখা শেষ হবে? উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ গণিত দলের হাতে কিছুটা সময় ছিল। মন চাঙা করতে, নতুন শহর দেখতে এ দলের সদস্যরা গাইডের নেতৃত্বে কিছু সময়ের জন্যা শহর দেখতে বের হ‌য়।

default-image

নোবেল বিজয়ীদের সন্ধান পাব তো?

অসলোতে বাংলাদেশ দল‌ যে হোটেলে থাকছে সেই এলাকাটি বলা যায় অসলোর প্রাণকেন্দ্র। হোটেলের পাশের রাস্তা‌টি শহরের মূল রাস্তা। এই‌ রাস্তার দুই পা‌শ বড় বড় ফুলের টবে সাজানো। আইএমও উপলক্ষে রাস্তার পাশের লাইট‌ পো‌স্ট ব্যানার পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে। শুরুতে আমরা যাই পার্লামেন্ট ভবন দেখতে। হোটেল থেকে তিন মি‌নিট দূরত্বে অবস্থিত নরওয়ের পার্লামেন্ট ভবন। পার্লোমেন্ট ভবনের বাইরে তেমন কোনো পু‌লিশি পাহারা দেখা যায়নি। গণিত দলের সদস্যদের মতো অনেক পর্যটক যে যার মতো ছ‌বি তুলছে। কিংবা পাশের সিঁড়িত‌ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। পার্লামেন্ট ভবনের দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাত, তারপর ব্যস্ত রাস্তা। হাজারো মানুষ ব্যস্ত, ছুটে চলছে অবিরাম। পার্লা‌মেন্ট ভবনের আরেক পাশের রাস্তা পার হলেই গ্র্যান্ড হোটেল অসলো। এই হোটেলে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের রাখা হয়। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী-গবেষক-ব্যক্তিত্বরা সবাই জড়ো হওয়ার পর হোটেলের বারান্দা থেকে উৎসুক জনতা ও বিশ্ববাসীর উদ্দেশে হাত নাড়েন, শুভেচ্ছা জানান। আমাদের কৌতূহলী চোখ নোবেলজয়ীদের অনুসন্ধান করলে কারও দেখা মিলল না। কারণ, এখন তো নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সময় না।

সাদা বিন্দুর সন্ধানে

এরপর আমরা যাই অসলো অপেরা হাউস দেখতে। ভবন‌টির স্থাপত্যশৈলী আধু‌নিক। ২০০৮ সালে তৈরি এই ভবন সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি। বলা হয়ে থাকে, এই ভবন তের শতকের পরে নির্মিত নরওয়ের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক ভবনগুলোর একটি। এই ভবনকে দেখলে কোথায় মাটি, কোথায় আকাশ বোঝা কঠিন মনে হয়। মাটি থেকে ছাদ পর্যন্ত পাহাড়ি পথের মতো ঢালু। পায়ে হেঁটেই ভবনের বা‌ইরে দিয়ে নিচ থেকে ছাদে যাওয়া যাচ্ছে। এক পাশ মিশে গেছে পাশের সাগরের পা‌নির সঙ্গে। ভবনের নকশা করেছে নরওয়ের স্থপতি ফার্ম স্নোয়েটা। সাদা গ্রানাইট পাথর আর ইতালিয়ান মার্বেলে তৈরি এই ভবনের ২০০৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যালে’ সেরা ভবনের পুরস্কার পেয়েছিল। দূর থেকে এই ভবনটিকে মনে হবে নীলের মধ্যে সাদা একটি বিন্দু।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন