বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়েবিনারে বিশেষ আলোচক ছিলেন আফগানিস্তানের জাতীয় ঐকমত্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পরিষদের (এইচসিএনআর) বিশেষ প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এম মুস্তফা মাসতুর। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের এবারের সংকটের শুরু ২০১৯ সালের নির্বাচন ঘিরে। এরপর তালেবানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এইচসিএনআর গঠিত হয়। তবে গত এপ্রিলে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে তালেবান। মার্কিন সেনাদের অনুপস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তালেবান প্রচণ্ড হামলা শুরু করেছে। একের পর এক প্রদেশ তারা দখলে নিচ্ছে। জুলাই মাসের পর আজ মঙ্গলবার ও কাল বুধবার কাতারে তালেবানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এইচসিএনআরের পরের দফা শান্তি আলোচনা হবে।

দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী মুস্তফা মাসতুর বলেন, তালেবানের সঙ্গে জুলাই মাসের আলোচনায় জানতে চাওয়া হয়েছিল কোন পদ্ধতিতে তারা দেশ শাসন করতে চায়। কারণ, শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে মিল রয়েছে। তারা এখন কোন মডেলটি বেছে নেবে? সৌদি আরব, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশ? তারা বলেছে, নিজেদের মডেল অনুসরণ করা হবে। যেই মডেলের শিক্ষা দেওয়া হয় পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোতে। ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে তালেবান এই মডেল অনুসরণ করছে। তাদের এই মডেল যেকোনো মুসলিম দেশের চেয়ে একেবারেই আলাদা।

মুস্তফা মাসতুর এইচসিএনআরের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর অন্যতম পরামর্শকও। মুস্তফার মতে, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের অবস্থা অত্যন্ত অস্থিতিশীল। এই পরিস্থিতি আল–কায়েদার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানকে মদদ দিতে পারে। তাই নিকট প্রতিবেশীর পাশাপাশি বাংলাদেশের সহযোগিতা জরুরি। আঞ্চলিক উদীয়মান দেশ বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধে এসআইপিজির জ্যেষ্ঠ ফেলো ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে। ২০০১ সালের পরে ভারত দেশটিতে প্রায় তিন শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আবার দেশটির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে পাকিস্তানের। দুই দেশের কেউই চায় না অন্য কোনো দেশ আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার করুক।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য কাতারে সব পক্ষের আলোচনাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। দেশটির ওই সংকটে জাতিসংঘকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাফল্যের রহস্য আফগানিস্তানকে জানাতে চায়। এর মাধ্যমে অস্থিতিশীল দেশটির উন্নয়ন অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ।

এসআইপিজির ফেলো অধ্যাপক ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, হাজার বছরের সমৃদ্ধ সভ্যতার রাষ্ট্র আফগানিস্তানের সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে প্রথাগত মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব। গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানের সংঘাত মধ্য এশিয়ায় সংকট তৈরি করতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তালেবানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং চীনের সঙ্গে তালেবানের বৈঠককে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, আফগানিস্তানে ব্র্যাক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাসহ সামাজিক নানা উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। তবে দেশটিতে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগ করে যদি ৬০ সেন্ট নিরাপত্তার পেছনে খরচ করা হয়, সেখানে সত্যিকার উন্নয়ন আসলেই দুঃসাধ্য।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন এসআইপিজির পরিচালক অধ্যাপক এম তৌফিক হক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন