default-image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আরও দুজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁরা হলেন বুয়েটের ছাত্র ইসমাইল ও হলের মেস বয় আবদুল কাদের। এ নিয়ে এই মামলার ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আগামীকাল সোমবারও এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

বুয়েটের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র ইসমাইল আদালতকে বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি, আকাশ ও অর্ণব দুর্গাপূজা দেখার জন্য জগন্নাথ হল ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান। ঘুরে সন্ধ্যার দিকে হলে আসেন। পরে টিউশনি করতে যান।

রাত নয়টায় তিনি হলে ফিরে আসেন। রাত ১০টার দিকে তাঁর কক্ষে অর্ণব আসেন। দুজনে মিলে আড্ডা দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আর অর্ণব হলের বাইরে যান।

ফিরে আসেন রাত একটার দিকে। কিন্তু রুমের দরজা বন্ধ পান। তখন চাবির জন্য রুমমেট আকাশকে কল দেন। তখন আকাশ তাঁকে দোতলায় যেতে বলেন। তিনি সেখানে যাওয়ার পর আকাশ তাঁকে জানান, ১৭তম ব্যাচের একজনকে শিবির সন্দেহে বাজেভাবে পেটানো হয়েছে।

ইসমাইল আদালতকে আরও বলেন, হলের দোতলার সিঁড়িতে আবরার ফাহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় তোশকের ওপর শোয়ানো দেখতে পেয়েছেন। আবরারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তখন মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন বলেছিলেন, ‘আবরার অভিনয় করতেছে।’ পরে বুয়েটের চিকিৎসক খবর পেয়ে সেখানে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বলেন, আবরার মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, আবদুস সোবহান তরফদার, প্রশান্ত কর্মকার, মিজানুর রহমান, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান।

গত বছরের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটে শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটি আমলে নেন আদালত।

তিন আসামি পলাতক। ২ সেপ্টেম্বর ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে ও পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0