default-image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আরও দুজন আজ মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলার ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবারও মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।
আজ বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মামলার শুনানি হয়। সাক্ষ্য দেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল কলাম আজাদ এবং হলের তত্ত্বাবধায়ক মতিউর রহমান।

শেরে বাংলা হলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আদালতকে বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর তিনি বাসায় ছিলেন। ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল স্যার তাঁকে ফোন দেন। বলেন, হলের একজন ছাত্র মারা গেছেন। পরে বুয়েট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তিনি চকবাজার থানায় যান। চকবাজার থানা থেকে পুলিশ নিয়ে শেরে বাংলা হলে আসেন। ভোররাত চারটার সময় হলে গিয়ে দেখেন, আবরার ফাহাদের লাশ চাদর দিয়ে ঢাকা। লাশের পাশে হলের বারান্দায় রাসেল, ফুয়াদ, অনিক, জেমিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশের এসআই দেলোয়ার হোসেন আবরার ফাহাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

বিজ্ঞাপন

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, সেদিন তিনি দেখেছিলেন, বুয়েট ছাত্র নিহত আবরার ফাহাদের কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত মারার দাগ ছিল। কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কালো আঘাতের দাগ ছিল। আবরার ফাহাদের পরনে ছিল সাদা রঙের ফুলহাতা শার্ট, কালো রঙের ট্রাউজার। ভোররাত সাড়ে চারটার সময় হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল স্যারের কাছ থেকে আবরার ফাহাদের বাবার মুঠোফোন নম্বর নেন। পরে তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। ৭ অক্টোবর সকাল ৯টার সময় হলের ২০১০ নম্বর কক্ষ থেকে ৫টি স্ট্যাম্প, ১টি চাপাতি, তোশকসহ অন্যান্য জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।

সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জেমি, অনিক, রাসেল, সকাল, শামীম, রবিনকে শনাক্ত করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল কলাম আজাদ।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের তত্ত্বাবধায়ক মতিউর রহমান আদালতকে বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর রাত নয়টার সময় শেরে বাংলা হলে অফিস করে তিনি বাসায় চলে যান। মুঠোফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে ঘুম ভেঙে দেখেন মুঠোফোনে ৭০ থেকে ৮০টি মিসড কল। পরে তিনি হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল স্যারকে ফোন দেন। তিনি তাঁকে দ্রুত হলে আসতে বলেন। সকাল ৯টায় তিনি হলে গিয়ে দেখেন পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব। শোনেন, হলে শিবির সন্দেহে এক ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। হলের প্রভোস্টের কক্ষে গিয়ে দেখেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিসিটিভির ফুটেজ দেখছিলেন। ফুটেজে রবিন, জিয়ন, অনিক, জেমি, রাসেল, শামীম, ফুয়াদ, সকালসহ অন্যদের দেখতে পান। আরও দেখেন, রাসেল ও অনিক হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে কথা বলছেন। তোশকে করে আবরার ফাহাদকে হলের সিঁড়ির কাছে রাখার দৃশ্যটি তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেন। হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি তিনি ফুটেজে দেখেছেন। ৭ অক্টোবর সকাল ১০টার সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে নিয়ে যান।

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অনিক, রাসেল, সকাল, শামীম ও রবিনকে তিনি শনাক্ত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এহসানুল হক সমাজী, আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া।

গত বছরের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ২১ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটি আমলে নেন আদালত। তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0