default-image

এক দিন, দুদিন করে ৪০ দিন কেটে গেছে। আগে কখনো বিদ্যালয়ে এত দিন অনুপস্থিত থাকেনি রিক্তা আক্তার (৯)। ঠিক কবে আবার সে স্কুলে যেতে পারবে জানে না। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়েই রিক্তা স্বপ্ন দেখে আবার সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাবে; পড়াশোনা শেষে হইহুল্লোড় করে খেলাধুলায় মেতে উঠবে বন্ধুদের সঙ্গে।

গত ৭ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার দক্ষিণ জাওরানী গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় রিক্তা। সিমেন্টবোঝাই ট্রলির চাকা চলে যায় তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে। এরপর তার ঠাঁই হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি ওয়ার্ডে। অর্থের অভাবে আটকে আছে উন্নত চিকিৎসা।

রিক্তা উত্তর জাওরানী গ্রামের কৃষক আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে। সে উত্তর জাওরানী সন্ন্যাসীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

হাসপাতালের বিছানায় আক্ষেপ নিয়ে রিক্তার মা রবিলা খাতুন বলেন, ‘মেয়েটা আবারও বিদ্যালয়ে যেতে চায়, পা যদি ঠিক না হয়, তাহলে কেমন করি যাবে, আমাদের তো টাকাপয়সা নাই যে চিকিৎসা করি মেয়েটাক ভালো করব।’

হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রিক্তার পাশে বসে আছেন তার বাবা-মা। সেখানে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট শামসুদ্দিন-কমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘মেয়েটির পরিবারটি খুবই দরিদ্র। চিকিৎসা চালানোর মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। শুনছি মেয়েটিকে ঢাকায় নিতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চালাতে হবে।’

রবিলা খাতুন জানান, অসুস্থ মাকে দেখতে ৫ এপ্রিল রিক্তাকে নিয় দক্ষিণ জাওরানী গ্রামে যান। দুই দিন পর তাঁর আরেক বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় হাতীবান্ধা-দৈখাওয়া-চাপারহাট জিসি সড়কে পেছন দিক থেকে ইঞ্জিনচালিত সিমেন্টবাহী একটি ট্রলি রিক্তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়।

রিক্তার মামা আবদুর রাজ্জাক বলেন, এলাকার হাট-বাজারে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেছেন। তবে রিক্তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তুলতে আরও লাখখানেক টাকা লাগবে।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জিয়াউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় রিক্তার ডান পা ভেঙে ও জয়েন্টগুলো খুলে গিয়েছিল। পায়ের হাঁটু থেকে পাতা পর্যন্ত অংশের প্রায় সম্পূর্ণ মাংস উঠে গিয়েছিল। চিকিৎসার পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা হলে অবস্থার আরও উন্নতি হবে। তবে কত দিন চিকিৎসা চালাতে হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন