default-image

মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয়ের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরছে। বাংলাদেশে নির্বাচনে জয়ী এই সরকারকে স্বাগত জানাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এ বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনো আলোচনায় বসেনি মিয়ানমার সরকার। অবশ্য বাংলাদেশ আশা করছে, নির্বাচনের শেষে চীনের মধ্যস্থতায় প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার আবার আলোচনা শুরু করবে।

মিয়ানমারে নির্বাচনের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আজ সোমবার এ আশাবাদের কথা জানিয়েছেন।  

বাংলাদেশে আসার তিন বছর পরও রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আস্থার সংকট রয়েছে। তাই তারা আদি নিবাসে ফিরছে না। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ, মিয়ানমারকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশের এসব প্রস্তাব নিয়ে মিয়ানমার কিছুই বলছে না।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের পর মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের আলোচনা নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন তাঁর দপ্তরে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘তাঁর দল (অং সান সু চি) যে এবার বেশি ভোটে জিতবে, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। নতুন সরকারকে আমরা স্বাগত জানাব। ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার বিভিন্নভাবে আমাদের অঙ্গীকার করেছে। মিয়ানমার এর আগে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাখাইনে কী কী পদক্ষেপ তারা নিয়েছে, এ নিয়ে একটি বই প্রকাশ করবে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের এটি দেওয়া হবে। এটি সুখবর। আমরা এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচনের পর প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার আলোচনা শুরু করবে। আমরা আলোচনার ব্যাপারে আশায় আছি।’

‘আমরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছি। মিয়ানমার কোনো জবাব দেয়নি। এ লোকগুলো কেন যায় না। কারণ, এরা মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তারা মনে করে না, রাখাইনে ফিরে গেলে তাদের নিরাপত্তা থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

আসিয়ানসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ব্যাপারে বাংলাদেশ বলে আসছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছি। মিয়ানমার কোনো জবাব দেয়নি। এ লোকগুলো কেন যায় না। কারণ, এরা মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তারা মনে করে না, রাখাইনে ফিরে গেলে তাদের নিরাপত্তা থাকবে। যদিও মিয়ানমার সরকার বলছে, তারা তাদের নিরাপত্তা দেবে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে মিয়ানমার আমাদের আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে বিশ্বাস করে না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারকে আমরা কয়েকটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার যে সংকট, সেটা কাটাতে আমরা মিয়ানমারকে আসিয়ানের সদস্যদেশ, ভারত ও চীন, এদের যুক্ত করে বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যাতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। আমাদের এই প্রস্তাবে মিয়ানমার হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি।’

‘আরেকটি প্রস্তাবে বলেছিলাম, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা আমাদের রোহিঙ্গা শিবিরে আসুক। তোমাদের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে আস্থা তৈরির চেষ্টা করো।

আরেকটি প্রস্তাবও দিয়েছি। যেটা মূলত ইন্দোনেশিয়া প্রথম দিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের দলনেতা, যাঁরা মাঝি হিসেবে পরিচিত, তাঁদের দল বেঁধে রাখাইনে নিয়ে গিয়ে দেখাক যে কী কী কাজ রাখাইনে হয়েছে। ফিরে এসে তাঁরা জানাবেন কী কী কাজ হয়েছে। আবার চীনের একটি প্রস্তাব ছিল। প্রস্তাবটা এমন, রোহিঙ্গাদের যে প্রতিনিধিদল রাখাইনে যাবে তাঁদের প্রত্যেককে একটি এবং কক্সবাজারে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের আরেকটি মুঠোফোন দেবে। রাখাইনে যাওয়ার পর সেখান থেকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে পরিবারের সদস্যদের জানাবেন কী দেখেছেন। এসব প্রস্তাবের কোনোটিতেই মিয়ানমার হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি। ’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0