বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমি তা দেখেছি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী হিসেবে প্রতিবেদনটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও তথ্যবিভ্রাটমূলক মনে হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট কোড (নিয়ম, রীতি) আছে। এই কোড অনুযায়ী তদন্তের প্রথম শর্ত হলো, তদন্ত দলে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের ওই বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে এবং অবশ্যই তাঁদের মধ্যে এক বা একাধিক সদস্যকে ‘অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন’কোর্স করা থাকতে হবে। এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির কোনো সদস্যের এই কোর্স করা নেই বলে নতুন কমিটি গঠন করে পুনরায় তদন্তের দাবি করা হয়েছে চিঠিতে।

কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হিসেবে কারণকে ‘হতে পারে’ বলে উল্লেখ করেছে। কোনো একটি কারণকে নিশ্চিত করেনি বলে প্রতিবেদনটিকে দায়সারা বলে উল্লেখ করেছেন সাখাওয়াত হোসেন।

default-image

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি বলেছেন যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ইঞ্জিনকক্ষ থেকে হয়েছে। অথচ তদন্তের ক্ষেত্রে নৌযানে কতর্ব্যরত চালক বা গ্রিজারের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি। অথচ মাস্টার এবং সুকানির বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। শীতের দিনে বাইরের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চের সামনের অংশের পুরোটাই ভেজা ছিল। তাই সামনে ও মাস্টার ব্রিজে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার কোনো কারণই নেই। এটা নাশকতার আলামত। অথচ এ নাশকতার কথা এড়িয়ে গেছে তদন্ত কমিটি।

আইন অনুযায়ী, কোনো লঞ্চের মালিক আবেদন না করলে জাহাজ জরিপকারকের নৌযান পরিদর্শনের এখতিয়ার নেই উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, সদরঘাট বন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পরিদর্শকেরা লঞ্চটি সদরঘাট ত্যাগ করিবার পূর্বে পরিদর্শন করার নির্দেশনা রয়েছে। নৌপরিবহন অধ্যাদেশের ২৭০ ধারা অনুযায়ী পরিদর্শকেরা অনির্ধারিত জরিপ করবেন এবং এ আইনের ২৬৭ ধারা অনুযায়ী অনির্ধারিত জরিপ করে তাৎক্ষণিক সদরঘাট বন্দরের প্রকৌশলী এবং জাহাজ জরিপকারকের দপ্তরে অবহিত করবেন। আইন অনুযায়ী, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে যাত্রা পরিদর্শকদের আগেই বন্ধ করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে লঞ্চটির নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ জব্দ করে বন্দরে রাখা উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে সদরঘাট বন্দরে নিয়োজিত বিআইডব্লিউটিএ-এর সাতজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। অথচ তদন্ত কমিটি পরিদর্শকদের দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কোনো সুপারিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৩ ডিসেম্বর সদরঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শকেরা এবং নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক অভিযান-১০ লঞ্চে ৩১০ জন যাত্রীর ভয়েজ ডিকলারেশন দিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর লঞ্চের যাত্রী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, জাহাজে আনুমানিক ৮০০ যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার কারণে আগুনে পুড়ে ও পানিতে ডুবে ৪৯ যাত্রী মারা যান। বিআইডব্লিউটিএ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক, পোর্ট অফিসার লঞ্চে নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনে সাহায্য করে আইন ভঙ্গ করেছেন। অথচ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁদের অভিযুক্ত করেনি।

প্রথম আলোতে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের বিষয় উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ-এর অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে মালিকদের অপকৌশলে রোটেশন পদ্ধতি চালু রেখে লাখো যাত্রীকে জিম্মি করে রেখেছেন একটি চক্র।

ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭।

এদিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ইঞ্জিনকক্ষ থেকেই, এটি নিশ্চিত হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি। কমিটি বলছে, ইঞ্জিনে ত্রুটি ছিল এবং অনুমতি না নিয়ে লঞ্চটির ইঞ্জিন বদল করা হয়েছিল। নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে না জানিয়ে অন্য একটি জাহাজের ইঞ্জিন লাগানো হয়েছিল লঞ্চটিতে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন