সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবির একটি দোতলা ভবনে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি থাকতে পারেন বলে প্রবাসীরা আশঙ্কা করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিন বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোররাত তিনটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কম্প্রেসর বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ১০ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোকসেদ আলী গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর তিনজন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। কাজেই তাঁরা মারা গেছেন বলে ধারণা করছেন প্রবাসীরা। তবে ওই ঘটনায় পুড়ে মারা যাওয়া ১০ জনের লাশই বিকৃত হয়ে গেছে। কাজেই ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া কারও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আরব আমিরাতপ্রবাসী সাংবাদিক আবদুল মান্নান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, আবুধাবির শিল্পনগর মোসাফাহ এলাকার দোতলা ওই ভবনের নিচতলায় একটি টায়ারের দোকান ছিল। আর ওপরের তলার ১১টি ঘরে প্রবাসী শ্রমিকেরা থাকতেন। এর মধ্যে একটি ঘরে কয়েকজন ভারতীয় থাকলেও বাকি ঘরগুলোতে ৭০ থেকে ৮০ জন বাংলাদেশি থাকতেন।
ওই ভবনের বাসিন্দা চট্টগ্রামের ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আজম ও জাকির হোসেনকে উদ্ধৃত করে আবদুল মান্নান জানান, ভোরের দিকে আগুন লাগে। বেশির ভাগ বাংলাদেশি জানালা ভেঙে বের হলেও অন্তত ১০ জন বের হতে পারেননি। সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে লাশগুলো বের করেন। কিন্তু ওই ১০ জনের শরীর পুড়ে এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে তা শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোসাফাহ এলাকার একটি টায়ারের দোকানে আগুন লেগেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এতে ১০ জন নিহত হয়েছেন।’ নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ আছেন কি না, জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পুড়ে যাওয়ায় চেহারা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কাজেই আমরা এখনো নিশ্চিত নই কয়জন বাংলাদেশি। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। আমরা পরিচয় জানার চেষ্টা করছি।’
একই রকম কথা বলেছেন ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার। তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজখবর রাখছি। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন।’
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজ রাখছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, আবদুস শুক্কুর ও সেলিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ এনামুল নামের নিখোঁজ তিনজনই নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া দিদারুল আলম, মইনউদ্দিন ও মো. ইসমাইল নামের তিন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন