বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আপনাকে শুভেচ্ছা। আপনি বেশ আবেগপ্রবণ বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় ভাইরাল হয়। কোন লাইনে বক্তব্য দিলে ভাইরাল হয়, সেটা চিন্তা করে কথা বলেন, নাকি সত্যিই আপনার বিশ্বাস থেকে বলেন?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বলা হয়ে থাকে, সস্তা জনতুষ্টিবাদীদের হাতে গণতন্ত্র ছিনতাই হয়ে গেছে। আবার বামপন্থীদের অনেকে বলে থাকেন, ‘গণতন্ত্র মানে বিজ্ঞাপন’। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা অবশ্যই জনমত, জন–আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিই। জনগণ একদম পছন্দ করবে না বা একদমই ভাইরাল হবে না, সে রকম ভাসা–ভাসা, তাত্ত্বিক বক্তব্য বা মন্তব্যে দলের, দেশের বা রাজনীতির কোনো উপকার হবে না। আমি বক্তৃতা দেওয়ার সময় খেয়াল রাখি, যেকোনো একটি গোষ্ঠীর অযাচিত সমালোচনা না করি বা অযাচিত তোষামোদ না করি। পাশাপাশি অবশ্যই যা বিশ্বাস করি তাই বলি। ভাইরাল হলে বা উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য পেলে মনে হয় আমার মন্তব্য বা বক্তব্য জনসমর্থন পাচ্ছে। এটি যেকোনো দল বা ব্যক্তির বা মতবাদের ভিত্তি শক্ত করে।

প্রথম আলো: সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে আপনি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। এখন জাতীয় ঐক্য ছাড়াই তো সবকিছু চলছে। দেশে উন্নয়নকাজ চলছে। মাঠে বিএনপির আন্দোলন নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য বাড়তি কি সুবিধা এনে দিত?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: একটি রাষ্ট্রে সরকার থাকলে অনেক কার্যক্রম চলবে, কিন্তু তা টেকসই হবে কি না? দেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর হলো, দেশে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হলো, বিশ্বে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হচ্ছে, তৃতীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব হচ্ছে। আর আমাদের গণতন্ত্র শেখাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। দেশের কিছু নির্যাতিত মানুষ বাধ্য হয়ে বহির্বিশ্বে অভিযোগ করছে। ন্যূনতম ঐকমত্য থাকলে, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা থাকলে হয়তোবা আমরা লজ্জাকর উপদেশ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকতাম না। আমাদের ‘হাইব্রিড ডেমোক্রেসি’ গালি শুনতে হচ্ছে। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যূনতম সমাধান করতে পারিনি। সর্বোপরি পররাষ্ট্রনীতি দলভেদে বা সরকারভেদে পরিবর্তন হতে পারে না। বরং মোটামুটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি, স্থায়ী হওয়া উচিত। জাতির জনক, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের অবশ্যই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। আন্দোলন নেই বা ব্যর্থ বলে আমরা একচ্ছত্রবাদ বা বিভাজনবাদের ভিত্তিতে দেশ চালাব, তা হতে পারে না।

প্রথম আলো: জাতীয় ঐক্যের কথা আপনি বলছেন বটে। এর কোনো সম্ভাবনা তো দেখা যায় না। তাহলে আপনার এ ধরনের বক্তব্যের পরিণতি কী?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: আমি আশা রাখি, দেশে মুখ্য দলগুলোতে অনেক দেশপ্রেমিক লোক আছে যারা ব্যক্তি, দল বা অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখবে। ছাড় দেবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদারতন্ত্রের চর্চা করবে।

আন্দোলন নেই বা ব্যর্থ বলে আমরা একচ্ছত্রবাদ বা বিভাজনবাদের ভিত্তিতে দেশ চালাব, তা হতে পারে না।

আলোচনা করবে। তা না হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অতীত ইতিহাস তাই বলে। ’৭২-৭৫ এর জাসদ ও আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব এর একটি উদাহরণ। আবার ত্রিশের দশকে নরওয়ে, ফিনল্যান্ডে দ্বন্দ্বমুখর দলগুলো একত্র হয়ে ভোটের মাধ্যমে নাৎসি অনুসারী জনপ্রিয় দলের ক্ষমতায় যাওয়া রোধ করেছিল। ইতালি, জার্মানির অপপ্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল। আমি ভবিষ্যতে কিছু যৌক্তিক বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা দেখি।

প্রথম আলো: সাম্প্রতিক সময়ে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন বা অবরোধ আরোপ নিয়ে কথা বলেছেন। অন্যান্য শক্তি বাংলাদেশের ওপর অবরোধ আরোপ করলে কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে বলেছেন। আপনি কি মনে করেন, সরকার এ অবরোধ আরোপ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: স্যাংশন নিয়ে সরকার চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন কি না জানি না। তবে সরকার তার মুখরা অবস্থান থেকে ফিরে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তুলনা করছিল, বর্তমানে সরকার আলোচনা করছে। অবরোধের প্রায়োগিক এবং বাস্তবিক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি সরকারের অতি অনুগত লোকদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দেয়। ভবিষ্যতে সরকারবিরোধীরা আন্দোলনে উৎসাহী হবে এবং সরকারি মেশিনারি আন্দোলন দমনে সতর্ক হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অবরোধের পাশাপাশি সরকার বা রাষ্ট্রীয় অবরোধের আশঙ্কাও বেড়ে যাবে, যদি সরকার সতর্ক না হয়। উপরন্তু পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ একটি সুপারপাওয়ারের অধীন হতে বাধ্য হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৗমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমরা সতর্কতার বাঁশি বাজিয়ে চলেছি, হুইসেলব্লোয়ারের কাজ করছি।

প্রথম আলো: আপনি জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব। আমার প্রশ্ন, আপনি কেন জাতীয় পার্টি করেন? আরও তো রাজনৈতিক দল এ দেশে আছে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: তাহলে আওয়ামী লীগের লোকেরা কেন আওয়ামী লীগ করে বা বিএনপির লোক কেন বিএনপি করে? ভলতেয়ার বলেছেন, আপনি আমার মত পছন্দ না–ও করতে পারেন, কিন্তু আমার মতকে আপনার সম্মান করতে হবে। এরশাদ স্যার আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, জি এম কাদেরও করেন। এরশাদ ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কারক ছিলেন, সংস্কারবাদী ছিলেন। তাঁর সময়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যা চাপিয়ে দেওয়ার সাহস পায়নি। পাহাড় শান্ত ছিল, শক্তির সর্বনিম্ন প্রয়োগে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। উপজেলা করেছিলেন। বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। তাঁর দল করার লক্ষাধিক কারণ আছে।

প্রথম আলো: সমালোচকেরা বলেন, জাতীয় পার্টি মোটেই বিরোধী দলের ভূমিকায় নেই। এ দলের একজন তরুণ সাংসদ হিসেবে সমালোচকদের প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিতে চান?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: সংসদে একটি বাজে রীতি আছে। হট্টগোল সৃষ্টি করে সময় নষ্ট করা। ২০১৪–এর আগ পর্যন্ত সংসদে অশ্লীল ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে। পানি ছিটানো হয়েছে। ওয়াকআউট হয়েছে। মিডিয়া এগুলো প্রচার করেছে। সংসদ জনগণের আলোচনার বা জনগণের হাসির খোরাক হয়েছে। একটি ধারণা হয়েছে বিরোধী দল মানেই এটা। এটা ভ্রান্ত ধারণা। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর, ৪২ বিধিতে চিঠি, ৭১ বিধিতে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব, জনমত যাচাই, সংশোধনী, ধন্যবাদ আলোচনা, পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে জনগণের কথা বলে সরকারেরবিরোধিতা করে প্রকৃত বিরোধী দলের কাজ করে যাচ্ছি। বিগত তিন বছরে সব জনবান্ধব ইস্যুতে সংসদে আমরা সোচ্চার ছিলাম এবং গণবিরোধী কার্যক্রমে সরকারকে বিরত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করেছি। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অনুচ্ছেদ ৭০–এর কারণে আমরা খুব কম সময়ে সফল হয়েছি। কিন্তু এর আগেও কোনো বিরোধী দল কি সংসদে সফল হয়েছিল? হয়নি।

প্রথম আলো: আপনি যদি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে না চান, সমস্যা নেই। প্রশ্ন হলো, আপনার মতে, গত এক দশকে জাতীয় পার্টির সবচেয়ে বড় ভুল বা ব্যর্থতা কোনটি বা কী কী?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের পর বিগত এক দশকে জাতীয় পার্টি জনগণের স্বার্থে দেশব্যাপী বৃহৎ আন্দোলন করতে পারেনি। একটি বড় দলের সাফল্যে আন্দোলনের সাফল্যও প্রয়োজন। এটি আমাদের একটি ব্যর্থতা। শত অভিযোগ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ অতীত আন্দোলনের সফলতার সুখস্মৃতি রোমন্থন করে উৎসাহিত হয়।

দলগুলোর উচিত বেশিসংখ্যক তরুণ যুবককে সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেওয়া।

অনেক রাজনৈতিক বাঁকবদলে জাতীয় পার্টি ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু তারা এ দেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো বাঁকবদলের জন্ম দিতে পারেনি। এক দিক থেকে এটিই আমাদের ব্যর্থতা। শীর্ষ নেতৃত্বে তারুণ্যের ঘাটতি জাতীয় পার্টিকে কিছুটা সমঝোতার রাজনীতিতে বাধ্য করেছে।

প্রথম আলো: এবার অন্য রকম একটি প্রশ্ন। সিনেমায় দেখা যায়, কখনো কখনো প্রতিবাদী তরুণদের এক দিনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু করে উদাহরণ সৃষ্টি করেন। আপনাকে যদি এখন এক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেওয়া হয়, কী কী করবেন?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: হা হা হা। ১৮ হাজার নকলনবিশ অমানবিকভাবে যুগ যুগ ধরে কাজ করছে। তাদের চাকরি স্থায়ী করব, ৫ হাজার বিচারক নিয়োগ দেব। পাস করা সব ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেব, সরকারি চাকরি আবেদনের ফি মওকুফ করব, উপজেলা আদালত করব, উপজেলা হাসপাতালে অপারেশন, ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করব, বিনা সুদে সহজ শর্তে তরুণদের ঋণ দেব, যাতে তারা চাকরি না খুঁজে বরং চাকরি দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেস্টরুম, টর্চার রুম সম্পূর্ণ বন্ধ করব, বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ মাধ্যম, মাদ্রাসাশিক্ষার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনব, বিদেশে ১০০ শীর্ষ সফল প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলব, পরামর্শ নেব, অভিবাসন ব্যয় শূন্য করব, প্রতিটি ইউনিয়নে জিম ও ক্রিকেট পিচ বানাব।

প্রথম আলো: জাতীয় সংসদে আপনার মতো তরুণ সদস্যের সংখ্যা অনেক। কিন্তু সংসদে তাঁদের অনেকেই ম্রিয়মাণ থাকেন। এর কারণ কী? দেশ ও মানুষের উন্নয়নে তরুণ সাংসদদের কি পৃথক কোনো ভূমিকা থাকা উচিত? আপনার নির্মোহ মূল্যায়ন শুনতে চাই।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: তরুণ ভোটের শতাংশ অনুপাতে তরুণ সংসদ সদস্যদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। অনুচ্ছেদ ৭০, পার্টি হুইপিং ধারা, ভবিষ্যৎ মনোনয়ন নিয়ে শঙ্কা, তারুণ্যকে উৎসাহিত না করা এসব কারণে যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণেরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়। ফলে রাজনীতিতে উদারতন্ত্রের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দলগুলোর উচিত বেশিসংখ্যক তরুণ যুবককে সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেওয়া। আর সংসদ নেতার উচিত তরুণ এমপিদের সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা বা সংসদীয় উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমে তাদের এগিয়ে নেওয়া। এমন হলে তরুণ সাংসদেরা আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রথম আলো: আপনি বক্তৃতায় প্রচুর বইপত্রের রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। পড়াশোনার সময় কখন বের করে নেন? আপনার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: আমার বাবা একজন দেবতুল্য মহর্ষি শিক্ষাবিদ, শিক্ষা উদ্যোক্তা, মানবাধিকারবিজ্ঞানী ছিলেন (এ বি এম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন)। আইন ও মানবাধিকার অঙ্গনে বাবার প্রচুর গুণগ্রাহী, ভক্ত আছে, যারা বাবার কারণে আমাকে স্নেহ করেন। তিনি স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনিই আমার চলার পথ তৈরি করে দিয়েছেন। প্রতিটি বক্তৃতায় আমি নতুন কিছু বলতে চাই বা ন্যূনতম একটি নতুন বই পড়ি। অনলাইনে আগ্রহ নিয়ে তথ্যাদি দেখি। আমাদের বাসায় বাবার হাজার হাজার বই থাকত। তবে দেশের জন্য কিন্তু ভালো কিছু করতে বা বলতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বার্থহীন, নিরপেক্ষ চিন্তার ক্ষমতা। বই শুধু সেই চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে অথবা ভিত্তি দেয়। ঢাকায় রাস্তায় বেজায় ট্রাফিক আমাদের পড়তে বা অনলাইন গবেষণায় বাধ্য করেছে।

প্রথম আলো: আমরা সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। দেশ ও মানুষকে নিয়ে আপনার বিশ্বাস ও স্বপ্নের কথা শুনতে চাই, যা সত্যিই অর্জন করা সম্ভব?

শামীম হায়দার পাটোয়ারী: এ দেশের মানুষ তেভাগা আন্দোলন করেছে, এ দেশ ক্ষুদিরাম, সূর্য সেনের জন্ম দিয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশ এত অন্যায়ের প্রতিবাদে সাফল্য দেখাতে পারেনি, যা আমরা দেখিয়েছি ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালে। আমরা ১৭ কোটি লোকের সমগোত্রীয় জাতি। আমরা সব বাধা অতিক্রম করে মাথা উঁচু করে থাকব, দুর্নীতিমুক্ত হব, জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার লবিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। এ দেশের জন্য এ স্বপ্ন অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন