default-image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটকাবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু আমাদের মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁর লেখার কারণে হয়তো কারও স্বার্থে আঘাত লেগে থাকতে পারে। একটি সভ্য সমাজে তাঁর লেখার নিরপেক্ষ বিচার–বিশ্লেষণ হবে এবং রাষ্ট্র দুর্নীতি দূরীকরণে ব্যবস্থা নেবে, সেটাই কাম্য। কারাগারে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় মুশতাক আহমেদের মৃত্যু আমাদের সেই আস্থায় বিরাট ফাটলের সৃষ্টি করল।

দুর্নীতিবাজদের পক্ষাবলম্বন করে মুশতাক আহমেদ, আহমেদ কবির কিশোর এবং আরও অগণিত সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার, বিনা বিচারে তাঁদের আটকে রাখা, জামিন মঞ্জুর না করা যেন রাষ্ট্রের নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। একেবারেই অসাংবিধানিক একটি আইন কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনটি প্রণয়নের সময় থেকেই মানবাধিকারকর্মী ও মুক্তমনা মানুষ এই আইনের বিরোধিতা করে আসছেন। আমাদের অভিজ্ঞতায় সংশ্লিষ্ট সবার শঙ্কা ও উৎকণ্ঠাকে সত্য প্রমাণিত করে স্বাধীন বাংলাদেশে অনবরত সেই আইনের অপব্যবহার চলছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে একজন লেখকের মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন
default-image

কারাগারে মুশতাক আহমেদের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, তিনি কবে অসুস্থ হয়েছেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, চিকিৎসকের মতামত–পরামর্শসহ সব তথ্য উদঘাটন করার জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে প্রাপ্ত তথ্য সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো একটি অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক আইন বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন