বিজ্ঞাপন

রাতে বাতাস ও প্রবাল স্রোতে দুবলার জেলে টহল ফাঁড়ির স্টাফ ব্যারাকের টিনের বেড়া ভেসে গেছে। জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেখানকার কর্মীদের মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলে টহল ফাঁড়ির মসজিদটিও। পাশের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন বিভাগের কর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ দুপুরে জোয়ারের সময় দুবলা ফাঁড়ির পুকুরের পাড়ে কিছু হরিণ ও এর বাচ্চাদের আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। আশপাশ তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে বেড়ে গেছে বিভিন্ন সাপের আনাগোনা। এ ছাড়া অসহায় অবস্থায় পড়েছে বন্য প্রাণীরা।

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, জোয়ারের পানি অনেক বেড়েছিল। আজ দুপুরের পর ভাটায় পানি কিছুটা নেমেছে। তবে সন্ধ্যা থেকে আবার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে সুন্দরবন।

মো. জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, ‘গত বছর আম্পানের চেয়েও এবার জোয়ারে সুন্দরবনের এই অংশে এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত পানি বেড়েছে। বঙ্গোপসাগরের তীরের দুবলায় বনকর্মীদের থাকার ঘরটির ওপরের টিনের চাল ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ঘরের নিচের পাটাতন পর্যন্ত জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তবে বন বিভাগের কর্মীরা বনের মধ্যে নিরাপদে রয়েছেন।

আগাম সতর্কতা হিসেবে পাকা ঘর না থাকা সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আটটি টহল ফাঁড়ি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সেখানকার কর্মীদের পাশ্ববর্তী স্টেশনগুলোতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বনকর্মীরা নিরাপদে থাকলেও বাতাস ও জোয়ারে আমাদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগের ৯টি জেটি, ১টি স্টাফ ব্যারাক ও ২টি অফিস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে বনের মধ্যে থাকা মিঠাপানির পাঁচটি পুকুরে।’

বনের মধ্যে বন বিভাগের কর্মী, জেলে ও বাওয়ালি ছাড়াও বনের মিঠাপানির পুকুরগুলোর পানি পান করে বাঘ-হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী। পুকুরে পানি ঢুকে পড়ায় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে কি না, সে বিষয়ে জনতে চাইলে ডিএফও মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘এবার পানিতে লবণাক্ততা খুব বেশি নেই। ফলে খুব বেশি ক্ষতি হবে না বলেই মনে করি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন