লক্ষ্মীপুরের শারমিন আক্তারের (২৪) স্বামী ইসমাইল হোসেন রানা প্লাজায় কাজ করতেন। ভবনধসের পরদিন তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় শারমিন ছিলেন সন্তানসম্ভবা। সন্তান দেখার জন্য তাঁর স্বামী লক্ষ্মীপুরে আসতে চেয়েছিলেন। এলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। স্বামী মারা যাওয়ার আট দিন পর তাঁর ছেলেশিশু জন্ম নেয়। একদিকে স্বামী হারানোর বেদনা, অন্যদিকে শিশুকে বড় করার চিন্তায় দিশেহারা হন তিনি। এ রকম নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান ১০ জন, পাঁচজন আহত শ্রমিক, পাঁচজন আহত উদ্ধারকর্মীসহ মোট ২০ জনকে এবার অর্থ সহায়তা দিল মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল। এ নিয়ে মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল থেকে মোট ১০০ জনকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হলো।
গতকাল সোমবার সকালে প্রথম আলো ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় তহবিলের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে এক লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর কার্যালয়ে দুর্গত ব্যক্তিদের হাতে ওই চেক তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক জেসমিন জামান।
সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও আপনাদের টিকে থাকা প্রমাণ করেছে, আপনাদের মনে অনেক শক্তি আছে।’ উদ্ধারকর্মীদের তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তার জন্য সারা দেশের মানুষ আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ জেসমিন জামান বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, যাতে সেই হাত ধরে আপনাদের দাঁড়ানো সহজ হয়।’
রাজবাড়ীর পাংশার বাসিন্দা রোজিনা আক্তারের স্বামী আকরাম হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। ভবনধসে তিনি মারা যাওয়ার পর তিন বছর বয়সী ছেলে রাহাতকে নিয়ে অন্ধকার দেখেন মা রোজিনা। সহায়তা পেয়ে বলেন, ‘এই টাকা আমার ছেলের ভবিষ্যতের জন্য থাকবে, লেখাপড়া করতে সহায়ক হবে।’ শাহজাহান সেলিম (৩৫) রানা প্লাজায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে চারতলা থেকে পা ফসকে নিচে পড়ে তাঁর কোমর ভেঙে যায়, বাঁ পায়ের হাড় সরে যায়। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। সহায়তা পাওয়ার পর বলেন, ‘আমি ঠিকমতো চলতে পারি না, কাজ করতে পারি না। আমার এক ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। এই টাকা তার বড় হওয়ার সম্বল হিসেবে কাজ করবে।’
তাসলিমা আক্তার (১৩) ও মোহাম্মদ আলী (১৬) দুই ভাইবোন। বাবাকে হারিয়েছে আগেই। মা রমিজা বেগম কাজ করতেন রানা প্লাজায়। দুর্ঘটনায় মা মারা গেলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। দুজনই সাভারের চাঁপাই নিউ মডেল হাইস্কুলে পড়ে। সহায়তা চেক পাওয়ার পর মোহাম্মদ আলী বলে, ‘এই টাকা দিয়ে আমার বোনকে চিকিৎসক বানাব।’
যাঁদের সহায়তা করা হলো: আহত শ্রমিক পাঁচজন হলেন মরিয়ম বেগম, আকলিমা আক্তার, রুবেল হোসেন, আল-আমিন ও মিঠুন আহমেদ। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান ১০ জন হলেন ঝর্ণা আক্তার, রুবি আক্তার, কল্পনা বেগম, মোছাম্মত খুকু, রোজিনা, আসমা বেগম, মুকুল বেগম, মোহাম্মদ আলী, শিউলি আক্তার ও শারমিন আক্তার। উদ্ধারকর্মী পাঁচজন হলেন মো. খোয়াজ আলী, রফিকুল ইসলাম, শাহজাহান সেলিম, জিন্নাতুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0