default-image

বয়স্ক ভাতার জন্য ঘুরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত না–ফেরার দেশে চলে গেলেন হতদরিদ্র আজগর আলী (৭৫)। গত শনিবার রাত ১০টায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের আরাজি আলমপুর গ্রামের দিনমজুর আজগর আলী মারা যান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজগরের চার মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বসতভিটার জমিটা পর্যন্ত না থাকায় অন্যের জমিতে ঘর বেঁধে বসবাস করছিলেন আজগর। দিনমজুরির সামান্য টাকায় স্ত্রী আর নিজের পেটের ভাতই জুটত না তাঁর। বয়সজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। টাকার অভাবে ওষুধপথ্যও কিনতে পারতেন না। দুর্বল শরীরে দিনমজুরি করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার মাথা ঘুরে পড়ে যান। এ জন্য লোকজন তাঁকে সহজে দিনমজুরের কাজেও নিতে চাইতেন না। এ অবস্থায় কাজ না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন তিনি। জীবনের এ সময়টাতে বয়স্ক ভাতা পাওয়াটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল তাঁর।
আজগরের স্ত্রী রহিমা বেওয়া গতকাল রোববার সকাল ১০টায় বলেন, অভাব, অসুখে অসহায় মানুষটা চলে গেলেন। বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য তিন বছর ধরে এলাকার ইউপি সদস্যের কাছে ধরনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু কার্ড হয়নি।
উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপজেলায় ২৯৮ জন নতুন ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা পাবেন। এর মধ্যে কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নে ২২ মার্চ বাছাই করে ২৭ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘বয়স, অসচ্ছলতা ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ২২ মার্চের বাছাই তালিকায় আজগরের নাম ওঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু দিনটা না আসতেই আজগর চলে গেলেন।’
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আশরাফ আলী বলেন, এখানে বয়স্ক মানুষ অনেক। সে তুলনায় কার্ডের সংখ্যা কম। এই জন্য তুলনামূলক বেশি বয়স্ক যাঁরা, তাঁদের আগে কার্ড দিতে হয়েছে। তাই এতোদিন আজগর আলীকে দেওয়া সম্ভব হয়িন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন