আলফনসোর পর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে ফিলিপাইনের কারাবাও আম। বিশ্বের সবচেয়ে মিষ্টি আম হিসেবে এই জাত গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখায় ১৯৯৫ সালে। কারাবাওয়ের আবার ১৪টি ধরন রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে সুইট এলেনা অব জ্যাম্বলস সবচেয়ে মিষ্টি। কাঁচা অবস্থায় অবশ্য এই আম সবুজ আর টক স্বাদের হয়। তবে পাকলে কমলা–হলুদ রং ধারণ করে। জাতটি ম্যানিলা ম্যাঙ্গো নামেও পরিচিত। ফিলিপাইনে উৎপাদিত অ্যাপল ম্যাঙ্গো, হর্স ম্যাঙ্গো, পাহুতান, পিকোসহ আরও কয়েকটি আমের জাতও বেশ জনপ্রিয়।


বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিন্ধ্রি নামের আমের জাতটি। একে আমের রানিও বলা হয়। পাকিস্তানের সিন্ধু অঞ্চলে এই আমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এই আমের মৌসুম। এ ছাড়া পাকিস্তানে আনোয়ার রাতুল, চৌনসা, সারোলি, সমর বাহিশত, ফজরি, নিলাম, আলমাস, সানওয়াল, সুরখা, সুনেরাসহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় আমের জাত রয়েছে।
মিয়ানমারের ‘সেইন তা লোন’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা আমের জাতগুলোর একটি। বার্মিজ ভাষায় ‘সেইন তা লোন’–এর অর্থ ‘হিরক আম’। পাকলে কমলা রং ধারণ করা বড় আকৃতির এই আমের মৌসুম এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে।

মেক্সিকোর আতলফো মোরালেস গর্দিলো বিশ্বজুড়ে আরেকটি জনপ্রিয় আম। সোনালি হলুদ রঙের খোসা দিয়েই এই আম চেনা যায়। ধারণা করা হয়, এই জাতের আম এসেছে ফিলিপাইনের কোনো জাতের আম পরিবর্তিত হয়ে। আঠারো শতকে আতলফো মোরালেস গর্দিলো জাতের আমটি মেক্সিকোতে পৌঁছায়।

এ অঞ্চলে ফলের ৫২% আম

আম মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফল। ধারণা করা হয়, এর উৎপত্তি বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে। তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার এই গণ্ডি পেরিয়ে আম এখন বৈশ্বিক ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera Indica (ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা)।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা উইলি–ব্ল্যাকওয়েল প্রকাশিত বিজ্ঞান –বিষয়ক সাময়িকী নিউ ফাইটোলজিস্ট–এ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে জানানো হয়, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় চার হাজার বছর আগে থেকে আমের চাষ করা হয়। এই অঞ্চলে আম ফলের রাজা নামে পরিচিত।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে উৎপাদিত ফলগুলোর মধ্যে ৫২ শতাংশই ছিল আম। এরপরের অবস্থানে ছিল আনারস, ২৮ শতাংশ। ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে অবশ্য ওই বছর আনারসের তুলনায় পিছিয়ে ছিল আম। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে রপ্তানি করা ফলের ৪৩ শতাংশই ছিল আনারস। আর আম রপ্তানি হয়েছে ২৩ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে এশিয়ায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের উৎপাদন বেড়েছে।

আম নিয়ে টুকিটাকি

একটি আম ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি বা তার কিছু বেশি ওজন পর্যন্ত হতে পারে। তবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর বেশি ওজনের আমের মুকুটটি দখল করে আছে কলম্বিয়ার কৃষক জার্মান অরলান্ডো নোভোয়া বারেরা এবং রেইনা মারিয়া মারোকুইনের বাগানের একটি আম। এই আমের ওজন ৪ কেজি ২৫০ গ্রাম। ২০২০ সালের ২৫ জুলাই ফিলিপাইনের একটি আমকাছ থেকে কলম্বিয়ার আমটি বেশি ওজনের আমের মুকুট ছিনিয়ে নেয়। ফিলিপাইনের ওই আমের ওজন ছিল ৩ কেজি ৪৩৫ গ্রাম।

বিশ্বে আমের দামি জাতগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জাপানের ‘তাইও ন তামাগো’, বাংলায় যার অর্থ ‘সূর্যের ডিম’। এই জাতের আমের দাম শুরুই হয় ১০০ মার্কিন ডলার থেকে। কখনো কখনো এক জোড়া এই জাতের আম তিন–চার হাজার ডলারেও বিক্রি হয়। বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে আমটির আবাদ হয়েছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার টাকায়।