হরতাল-অবরোধের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজে এবং সন্তানকে মামলা থেকে রক্ষা করতে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার সংসদে স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনীত নোটিশের ওপর দেওয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, সেখানে কীভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা দিতে পাঠাব। তাদের জীবনের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই হরতাল-অবরোধের সাথে সাথে একটি নিরাপদ সময়ে পরীক্ষা পিছিয়ে পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্য যে, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি দল এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকটি দল এক হয়ে প্রতিনিয়ত হরতাল-অবরোধের নামে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। মানুষ হত্যার সময় নারী-শিশু হত্যা হচ্ছে, এ বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের তারা হত্যা করছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাদের হাতে মারা যাচ্ছে, পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে, যন্ত্রণা ভোগ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি করি জনগণের জন্য আর সেই জনগণকেই যদি কোনো দল হত্যা করে এটাকে কী বলা যাবে? এটা রাজনীতির নামে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম। সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কার্যক্রম। বিএনপি-জামায়াত জোট এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমগুলোই করে যাচ্ছে।’ তিনি মানুষ পুড়িয়ে হত্যার মতো হীন জঘন্য কাজ যারা করছে তাদের রুখে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

খালেদা অফিসে বসে কাদের পাহারা দিচ্ছেন?
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী নিজেকে নিজে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। তারা বলছে, তাদের নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হয় না। ১৪ তারিখে তারা ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিবাদ মিছিলের। তাদের বাধা দেওয়া হয়নি। তাদের অনুমতিও ছিল। কিন্তু কেউ রাস্তায় নামেনি। কিছু দর​িদ বলছেন, তার অফিসে নাকি খাবার যাচ্ছে না। অফিসে খাবার যাবে কেন? অফিস শেষে বাড়ি যাবে, বাড়িতে বসে খাবার-দাবার খাবে। সেখানে নাকি প্রতিনিয়ত ৫০-৬০ জন মানুষ থাকে। এত মানুষ সেখানে বসে কী করছে? উনি অফিসে বসে কাদের পাহারা দিচ্ছেন? রাজনৈতিক কর্মী নাকি সন্ত্রাসীদের। অফিসে কারা আছে, এখানে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসী আছে কি না, এটা দেখা উচিত। সেখান থেকে টেলিফোন করে মানুষ হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। আরেকটি বিষয় খুঁজে বের করতে হবে কারা তাদের অর্থ জোগান দিচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী এবং জামায়াত জোট তারা আসলে সুস্থ অবস্থায় নেই, তাদের মানসিক বিকৃতি ঘটেছে বলেই তারা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করছে। তাদের স্বার্থের জন্য তারা সব করতে পারে। এই ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার কথা কোনো দিনই বলবেন না।’
নোটিশের ওপর আলোচনায় আরও অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ, জাসদের মঈন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, মাহজাবীন মোরশেদ, স্বতন্ত্র সাংসদ হাজি সেলিম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন