এদিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় আজ মামলা করেছেন নিহত শাহানারার স্বামী মো. আবদুল হামিদ। এ মামলায় কারখানার মালিক মিজানুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানায় গিয়ে একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় মাস আগেও এটি গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এরপর সব মালামাল সরিয়ে নতুন করে বসানো হয় জুতা তৈরির সরঞ্জাম। বুধবার ছুটির ঠিক আগমুহূর্তে বিকট শব্দে মূল ফটকের সোজাসুজি ভবনের পশ্চিম পাশের দেয়ালঘেঁষা অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। নিচতলার অনেকেই তখন ফটক দিয়ে বের হয়ে যান। দোতলার শ্রমিকেরা বের হতে চাইলে সুপারভাইজার আগুন নিভে যাবে উল্লেখ করে তাঁদের আটকিয়ে দেন। তবে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে নিষেধ অমান্য করেই তাঁরা বের হতে যান। অনেকেই বেরোতে পারলেও আটকা পড়েন কেউ কেউ। ঝুমুরও তাঁদেরই একজন।

ঝুমুর বলেন, লোহার সিঁড়ি দিয়ে দোতলা থেকে নামতে গিয়ে লাফ দিয়ে নিচে রাখা ফোমের রোলের ওপর পড়েন তিনি। টিনের শেডের নিচে দেওয়া ইনস্যুলেশন/ফয়েল গলে গলে তখন পড়ছিল মেঝেতে। তারই কিছু পড়ে ঝুমুরের হাতেও। পায়ে লেগে যায় তপ্ত জুতা তৈরির পেস্টিং। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কারখানায় অনেক কষ্টে চলে যান জানালার কাছে। সেখানে আরও দুই–তিনজন আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বাঁচার আকুতি নিয়ে।

তাঁদের চিৎকারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানালা ভেঙে উদ্ধার করেন ঝুমুর, জোসনা ও সাথীকে।

হাতে ও পায়ে পোড়া ক্ষত নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন জোসনা। কথা হয় তাঁর সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘সুপারভাইজার আগুন লাগার শুরুতে আমাদের বের হতে দিলে অনেকেই বাইচা যাইত।’

আগুনে হাতের কিছু অংশ পুড়ে গেছে সাথী আক্তারের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুরের দিকে ৫০ টিন পেস্টিং (জুতা তৈরির আঠা) কারখানায় আনা হয়। ফ্লোরেই সেগুলো রাখা ছিল। প্রথমে আমরা অল্প একটু আগুন দেখলেও হুট করেই দেখি আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নেভানোর কিছুই ছিল না কারখানায়।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ প্রথম আলোকে বলেন, নিহত দুই নারীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর অজ্ঞাতনামা পুরুষের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে এরপর তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন