বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহভাপতি মোশারফ হোসেন তালুকদার জানান, এখন নদীতে বালু তোলা বন্ধ। তবে গরিব শ্রমিকেরা পেটের তাগিদে লুকিয়ে কিছু বালু-পাথর তোলেন। এটাই তাঁদের জীবিকার একমাত্র পথ। তিনি বলেন,‘আমার ছোট ভাই মুশাহিদ বালু-পাথরের ব্যবসা করে। কিন্তু সাংবাদিককে মারধরে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গ্রাম্য প্রতিহিংসা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন অযথাই আমার পরিবারকে এসবের সঙ্গে জড়াচ্ছে।’ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আমরা ১৫-২০ বছর ধরে এসব নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। এই নদীতে হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা বালু-পাথর তুলেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁরা যদি হাতে বালু-পাথর উত্তোলন করেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো ড্রেজার বা বোমা মেশিনে।
কাসমির রেজা, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি

তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান চালায়। কিন্তু যাঁরা ধরা পড়েন, তাঁরা সাধারণ শ্রমিক। কিন্তু পেছনে থেকে যাঁরা এসব করান, তাঁরা হয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আছেন, নাহয় স্থানীয় প্রভাবশালী। তাই তাঁদের কখনোই কোনো কিছুই হয় না। যে কারণে এসব বন্ধ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেছেন, ‘যাদুকাটা নদীর বালুমহাল এবার ইজারা হয়নি। তাই এখানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এরপরও আমরা যখন অভিযোগ বা খবর পাই, তখনই অভিযান পরিচালনা করি। বিভিন্ন সময় বালু উত্তোলনে থাকা লোকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে।’

ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ‘আমরা ১৫-২০ বছর ধরে এসব নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। এই নদীতে হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা বালু-পাথর তুলেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁরা যদি হাতে বালু-পাথর উত্তোলন করেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো ড্রেজার বা বোমা মেশিনে। আমরা পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের পক্ষে। পরিবেশের ক্ষতিকর পদ্ধতিতে যাঁরা এসব কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন