বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহেশপুর উপজেলা শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম শ্যামকুড়। এ গ্রামে রয়েছে সীমান্ত ভাটা, যে ভাটায় সমানে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এর আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে রাফি ভাটা। পদ্মপুকুর গ্রামে অবস্থিত এ ভাটায় বছরে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ ইট তৈরি করা হয়। এ ভাটাতেও পোড়ানোর জন্য কয়েক শ মণ কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। উপজেলার ভৈরবা বাজারের সঙ্গে আছে এমএসবিএম ভাটা, এ ভাটাতেও কাঠ পুড়ছে। ভাটা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তারা কয়লার পাশাপাশি কিছু কাঠ রেখেছেন। বিশেষ সময়ে কাঠের প্রয়োজন হয়।

বৈচিতলা গ্রামের মাঠের মধ্যে রয়েছে ফাতেমা ভাটা। এ ভাটায় এখনো টিনের চিমনি ব্যবহার করে কয়েক শ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। একইভাবে গুড়দা বাজারের পাশে থাকা জেবিএম ভাটায় টিনের চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজাপুর গ্রামে রয়েছে বাহার ব্রিকস। ভাটাটি জিগজ্যাগ হলেও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার চারপাশে কয়েক শ মণ কাঠ রাখা আছে। ভাটামালিক মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে কয়লার প্রচুর দাম। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কিছু সময় কাঠ পোড়ানো হলেও তাঁরা কয়লাই ব্যবহার করছেন।

default-image

সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার নেপা গ্রামের মাসুম ব্রিকসে চারপাশে সাজানো কয়েক শ মণ লাকড়ি দেখা গেল। বড় বড় গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে এসব লাকড়ি। ইটভাটার চুল্লিতে দাউ দাউ করে পুড়ছে কাঠগুলো। এ ভাটায় বছরে পোড়ানো হয় প্রায় ৫০ হাজার মণ কাঠ। একই চিত্র উপজেলার আরও অনেক ইটভাটায় দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটাসংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, মাসুম ব্রিকস নামের এ ভাটায় প্রতিবছরই কাঠ পোড়ানো হয়। ইতিপূর্বে এ ভাটায় টিনের চিমনি ছিল, কাঠই এই চিমনির প্রধান জ্বালানি। এ বছর ভাটাটি জিগজ্যাগ ভাটায় রূপান্তর করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ ভাটায় কয়লা পোড়ানোর কথা থাকলেও এখানে কাঠই পোড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ ভাটায় কাঠের জোগান আসছে আশপাশের এলাকার গাছপালা থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসুম হোসেন নামের এক ব্যক্তি কয়েক বছর আগে নিজের নামে ভাটাটি গড়ে তোলেন। এ ভাটায় আগে ব্যবহৃত টিনের চিমনিটি গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভেঙে দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে স্থায়ী চিমনি করা হয়। স্থায়ী চিমনি করে জিগজ্যাগ ভাটা হিসেবে দেখানো হলেও আগের মতোই পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। কয়লার কোনো বালাই নেই এ ভাটায়।
ভাটার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিবছর এ ভাটায় ২৪–২৫ লাখ ইট পোড়ানো হয়। এক লাখ ইট পোড়াতে দুই হাজার মণ কাঠ লাগে। সে হিসাবে, ৪৮ থেকে ৫০ হাজার মণ কাঠের প্রয়োজন হয়। ছোট ছোট কাঠ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব কাঠ সংগ্রহ করে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ। ভাটাটিতে এ বছরের শুরু থেকেই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটা চালুর আগেই চারপাশে কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।

default-image

ভাটায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন মাসুম ব্রিকসের মালিক মাসুম হোসেন। তাঁর দাবি, এ বছর জিগজ্যাগ ভাটা করলেও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় কয়লা পোড়ালে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে, যে কারণে কাঠ পোড়াচ্ছেন। কাঠ পোড়ানো আইনত অপরাধ, বিষয়টি জেনেও পোড়াচ্ছেন তিনি। জানালেন, সব ইটভাটাতেই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, তাই তিনিও পোড়াচ্ছেন।

মহেশপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে কাঠ পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। যে হারে কয়লার দাম বেড়েছে, সে হারে ইটের দাম বাড়েনি। এর ফলে কাঠ পুড়িয়ে খরচ সমন্বয় করছেন কেউ কেউ। তবে সমিতির পক্ষ থেকে ভাটায় কয়লা পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে সবাই কয়লা পোড়াবে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের সহাকারী পরিচালক হারুন-অর রশীদ জানান, ঝিনাইদহ জেলার এসব বিষয় দেখভাল করছে ঝিনাইদহ অফিস। সেখানে নতুন অফিস হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক স্বরূপ মজুমদার বলেন, তাঁরা সদ্য অফিস করেছেন। এখনো বসার ব্যবস্থা হয়নি। তবে দ্রুতই অফিসের সব কার্যক্রম চালু হবে। তারপরও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন, এগুলো দেখেছেন। অফিসের কাজ শুরু হলে এসব ভাটায় তাঁরা অভিযানে যাবেন।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, যেসব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন