যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিকাশ লিমিটেড, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক ও নগদ লিমিটেড।

একই সঙ্গে ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেন ইস্যু করা চেক–সংক্রান্ত মামলায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের নামে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকলে, তা বাতিল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে। সব জেলা জজ, মেট্রোপলিটন সেশন জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান। শামীমা নাসরিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী শামীম আহমেদ। ইভ্যালির গ্রাহক ফরহাদ হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

পরে আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, অডিট কার্যক্রমের স্বার্থে ইভ্যালির আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। তাই ইভ্যালি, ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও সিইওর আর্থিক লেনদেনের তথ্যসংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন সরবরাহ করে—এমন নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করা হলে আদালত ওই আদেশ দেন। ইভ্যালির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নতুন বোর্ড গঠনের আগ পর্যন্ত ইভ্যালিসহ তাদের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার দিয়ে অর্থ পরিশোধের পর পণ্য ও অর্থ ফেরত না পেয়ে ফরহাদ হোসেন নামের ইভ্যালির এক গ্রাহক গত সেপ্টেম্বরে ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ অক্টোবর আদালত ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন। এরপর ইভ্যালির সাতটি গাড়ি নিলামের প্রক্রিয়া পরিচালনাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একটি আবেদন করে।

শুনানি নিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রাসেল ও তাঁর স্ত্রী, তাঁদের সন্তান, তাঁদের মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্য এবং ইভ্যালির ভবনমালিকের ব্যাংক (ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক) হিসাব কেন জব্দ করা হবে না, এ বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের কারণ দর্শাতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় রাসেলের শ্বশুর, শাশুড়ি ও আত্মীয় আদালতে উপস্থিত হয়ে রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমার শেয়ার নেওয়ার মৌখিক ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁদের শেয়ার হস্তান্তরে স্বাধীনতা রয়েছে বলে আদেশ দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন