টেকনাফে ইয়াবা চালান ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইয়াবাসম্রাট নুরুল হুদা, নুর মোহাম্মদ গংরা স্কুলছাত্র মো. সরওয়ারকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা করে।
গত সোমবার ইয়াবাসহ নুরুল হুদা র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর হত্যাকাণ্ডের কথা র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেন। নিহত সরওয়ার কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম লেদা গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে। সে টেকনাফের হ্নীলা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজারের উপপরিচালক মেজর কাজী মো. রাশেদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, নুরুল হুদা, নুর মোহাম্মদ গংরাই গত ১২ জানুয়ারি বিকেলে স্কুলছাত্র সরওয়ারকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই দিন সকালে র‌্যাব সদস্যরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও লেদা গ্রামের নুর মোহাম্মদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা দামের ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ প্রায় চার লাখ টাকাসহ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মিনারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল, র‌্যাবের কাছে তাঁদের ইয়াবার গোপন তথ্য ফাঁস করে সরওয়ার।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই দিন বিকেল চারটার দিকে র‌্যাব সদস্যদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে স্কুলছাত্র সরওয়ারকে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নিয়ে বেদম লাঠিপেটা করেন নুর মোহাম্মদের চার ভাই নুরুল হুদা, নুরুল কবির, শামসুল হুদা, নুরুল আবছারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। নির্যাতনে সরওয়ারের দুই পা ও এক হাত ভেঙে যায়। এরপর মৃত ভেবে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাকে জঙ্গলে ফেলে দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সরওয়ারকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (সিআইসি ক্লিনিকে) ভর্তি করা হয়। ১৭ জানুয়ারি বিকেল চারটায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের জেঠাতো ভাই মৌলভি আবুল হাশেম এর সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি তিনি টেকনাফ থানায় গিয়ে ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদ, নুরুল আমিন, নুরুল হুদা, নুরুল কবিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার এজাহার দেন। কিন্তু টেকনাফের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে ইয়াবা গডফাদাররা নিহতের পরিবারকে ম্যানেজ করে এজাহারটি তুলে নেন। এরপর কী হয়েছে তিনি জানেন না।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, গত ২১ জানুয়ারি নিহত সরওয়ারের বাবা আবদুল শুক্কুর বাদী হয়ে স্থানীয় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার অঞ্চলের উপপরিচালক কাজী মো. রাশেদুল আলম বলেন, গত সোমবার সাত হাজার পিস ইয়াবা ও অস্ত্রসহ আটকের পর নুরুল হুদা স্কুলছাত্র সরওয়ারকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন