বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ইশতিয়াক আহমেদ নামের একজন গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়ে সম্প্রতি নিরাপদ ডটকমের সিইওর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি শাহরিয়ার খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, শাহরিয়ার খান গত বছরের আগস্টে নিরাপদ ডটকম নামের একটি ই- কমার্স সাইট খুলে বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন। ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ে মুঠোফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে হোম ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

উপকমিশনার শরীফুল জানান, নিরাপদ ডটকমের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় চার হাজার। এক মাসের মধ্যে তারা প্রায় ১২ হাজার অর্ডার পায়। এর থেকে সাত থেকে আট কোটি টাকা শাহরিয়ার খানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। যাঁরা পণ্য অর্ডার করেন, তাঁদের বেশির ভাগই ছাত্র ও অল্প বেতনের চাকরিজীবী। প্রাথমিক অবস্থায় নিরাপদ ডটকম কিছু পণ্য ডেলিভারি করে সেই গ্রাহকদের দিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে ইতিবাচক রিভিউ পোস্ট করিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরবর্তীকালে অধিক সংখ্যায় অর্ডার ও অগ্রিম অর্থ পেলে, তারা পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। অনেক দিন পেরিয়ে গেলে গ্রাহকেরা যখন বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিকার দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। যাঁরা চাপ প্রয়োগ করতে পেরেছেন, তাঁদের টাকা ফেরতের কথা বলে চেক দেওয়া হয়। তবে ওই সব চেক দিয়ে টাকা তোলা সম্ভব হয়নি।

বারবার চেক ডিজঅনার হওয়ার অভিযোগ আসতে থাকলে শাহরিয়ার খান গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিরাপদ ডটকম নামের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ১১২টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ৬৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ বলছে, বাংলাদেশে দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইটভিত্তিক এবং প্রায় এক লাখের মতো ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্স সাইট চালু রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন