পবিত্র রমজান মাসের অর্ধেক হয়ে গেলেও বগুড়ায় জমছে না ঈদের কেনাকাটা। শহরের অভিজাত মার্কেট, বিপণিবিতান, শপিংমল, বুটিক হাউসগুলোয় এখনো ঈদবাজার পুরোদমে জমেনি।
গত বছরের ঝিলিক, খুশি, পাখি, মাসাককালি, আনারকলি, জিপসি, হাঙ্গামা, হাউসফুল, ছ্যমমাক ছ্যালো, লাভেরিয়াকে পেছনে ফেলে এবার সব বয়সী মেয়ের কাছে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বাহারি পোশাক ‘কিরণমালা’। ভারতীয় স্টার জলসা টিভি চ্যানেলের এক সিরিয়ালের আলোচিত চরিত্র কিরণমালার সুবাদেই এই পোশাক এখন সব বয়সী মেয়ের, বিশেষ করে কিশোরীদের পছন্দের শীর্ষে।
অন্যদিকে তরুণীদের বেশি পছন্দ পাকিস্তানি ও ভারতীয় স্ট্রিচ ছাড়া জর্জেট থ্রিপিস। এসব থ্রিপিস আনারকলি, কিরণমালাসহ বিভিন্ন নামে বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম চার হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ঈদ উপলক্ষে বেশি বিক্রি হচ্ছে বেনারসি, সিল্ক, কাতান, জর্জেটসহ নানা ধরনের শাড়ি। এসব শাড়ির দাম এক হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জলেশ্বরীতলার আবদুল জোব্বার সড়কে ঈদবাজার করতে আসা সূত্রাপুরের ফারজানা ইসলাম বলেন, মেয়েদের পোশাকের দাম গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ। ছেলেদের পাঞ্জাবির দামও এবার বেশি।
বগুড়া শহরের নিউমার্কেট, পুকুরপাড় নিউ মার্কেট, নওয়াববাড়ি সড়কের আলতাফ আলী সুপার মার্কেট, শেখ শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট, আল আমিন শপিং কমপ্লেক্স এবং জলেশ্বরীতলা রোমেনা আফাজ সড়ক, কালীবাড়ি মোড়, শহীদ আবদুল জোব্বার সড়ক এবং রায় বাহাদুর সড়ক ঘিরে গড়ে ওঠা নানা নামের শপিং মল ও বুটিক হাউস ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই ক্রেতা কম।
জলেশ্বরীতলা আবদুল জোব্বার সড়কের বুটিক হাউস ‘শখ’-এর স্বত্বাধিকারী শাহনাজ ইসলাম বলেন, অন্যবার ১০ রমজানের পর থেকেই ঈদবাজার জমে উঠত। বিশেষ করে দিনের বেলা গ্রামাঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। ইফতারের পর ভিড় করতেন শহরের ক্রেতারা। কেনাবেচা হতো মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ১৫ রমজান পার হলেও গ্রামের ক্রেতাদের তেমনটা দেখা নেই। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে বেচাবিক্রি এবার অর্ধেক। এবারের ঈদবাজারে শিশুদের জন্য চায়না, থাইল্যান্ড ও ভারতীয় পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। এবার মেয়ে বাচ্চাদের টপ ফ্রক ও পার্টি ফ্রক এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ বাজারে কিরণমালা নামের বাহারী ফ্যাশনের ব্যাপারে শাহনাজ ইসলাম বলেন, ভারত থেকে আলাদাভাবে কিরণমালা বা পাখি, আনারকলি নামে কোনো পোশাকই আসে না। সোনালি রঙের জর্জেট কাপড়ে চুমকি, পুতি ও পাথরের কাজ করা দেশি-বিদেশি পোশাক অনেক আগে থেকেই বাজারে ছিল। ভারতীয় চ্যানেলে কিরণমালার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে মেয়েদের ফ্যাশনের বাজারে অনেক আগে থেকে থাকা এই পোশাকই এখন ‘কিরণমালা’ নামে বিক্রি হচ্ছে। এটা ক্রেতাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
অবশ্য সুকন্যার মিতু ইসলাম বলেন, এই ঈদে মেয়েদের পছন্দের পোশাক কিরণমালা ভারত থেকেই আনা। তিনি বলেন, কিরণমালা চার হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, কিরণমালা ছাড়া ফ্লোর টাচ পাকিস্তানি থ্রিপিস সুকন্যায় নয় হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোমেনা আফাজ সড়কের ‘রংগন’ সুপার শপের ব্যবস্থাপক তাইয়েবুর রহমান বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে মেয়ে শিশুদের পার্টি ড্রেস তিন হাজার থেকে সাত হাজার এবং বড় মেয়েদের থ্রিপিস ছয় হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবারের ঈদে নতুন আকর্ষণ তরুণীদের গাউন থ্রিপিস ‘কন্যাকুমারী’ সাত হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, পাকিস্তানি লং কামিজ তিন-চার হাজার টাকায় এবং ভারতীয় লাফা ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বুটিক হাউসে ছেলেদের পাঞ্জাবি দেড় হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেট এলাকায় তরুণীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় রনি ক্লথ স্টোরে। সব দর্জিবাড়িতে ফরমায়েশ নেওয়া এখন শেষের পথে হওয়ায় শেষ মুহূর্তে থ্রিপিস কিনতে ঝুঁকে পড়েছেন ক্রেতা। পোশাকের পাশাপাশি প্রসাধনী, গয়না ও জুতার দোকানেও কেনাকাটা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0