তবে এর মধ্যে তিস্তা অববাহিকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ওই নদীর উজানে ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ অংশে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। এতে দু–এক দিনের জন্য উত্তরের তিন জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরে বন্যার ঢল আসতে পারে। ওই পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।

এ বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, উজানের বেশির ভাগ জায়গায় বৃষ্টি কমে এসেছে। বাংলাদেশের ভেতরেও আপাতত ভারী বৃষ্টির তেমন আশঙ্কা নেই। ফলে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে চলতি জুলাই মাসের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। তবে মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বৃষ্টিপাত বেড়ে যেতে পারে। ওই সময়ে উজানে ভারতীয় অংশেও বৃষ্টি বাড়তে পারে। এর ফলে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে; যা শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপেও পরিণত হতে পারে। এর ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বজ্র–ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুন মাসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। তবে সিলেট ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬০ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ওই দুই বিভাগে বন্যার পানি দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগামী কয়েক দিন দেশের বেশির ভাগ এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টি থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহের পরে বৃষ্টি বাড়তে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে—৬৯ মিলিমিটার। আজ সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন