মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে উত্তর কলাবাগান ৩৮ নম্বর ভবনের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মাঠে আমরা ঈদের জামাত করতে পারছি, এটা অবিশ্বাস্য। ঈদে মাঠটাই এলাকাবাসীর কাছে বড় পাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছরে এত মানুষের সঙ্গে একত্রে নামাজ পড়া হয়নি। এবার করোনার ভয় নেই। মাঠ নিয়েও শঙ্কা কেটে গেছে। তাই অনেক আনন্দ নিয়ে নামাজ পড়লাম।’ এই মাঠে ঈদের জামাতে এত লোক আগে কখনো হয়নি বলেও তিনি জানান।

default-image

মাঠে ঈদের নামাজ পড়তে পারা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ৫০ নম্বর, উত্তর কলাবাগানের বাসিন্দা সাহেদ ওসমানও। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোয় যেভাবে আমরা এই মাঠেই ঈদের জামাত করছিলাম, এবারও সেভাবেই করতে পারছি। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।’ নিজে এই মাঠে খেলাধুলা করেছেন, তাঁর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে শাহরিয়ার ওসমানও এ মাঠেই খেলাধুলা করে বড় হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হলে ভালো হবে। সেই সঙ্গে মাঠে সীমানায় ইটের দেয়াল ভালো লাগছে না। এ দেয়াল ভেঙে ফেলতে হবে। বাইরে থেকেই মাঠ দৃশ্যমান হবে, এমন লোহার তৈরি গ্রিল স্থাপন করলে ভালো।

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল আটটায় ঈদের জামাত শুরু হয়। মাঠজুড়ে করা প্যান্ডেলে ভর্তি ছিল মানুষ। খুতবা পাঠের পর সবার মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষ হয় সকাল সাড়ে আটটার দিকে।


নামাজ আদায় শেষে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মাঠ নিয়ে নিজেদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসও জানান উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে।

ওই মাঠে ছেলে মাহাতির ও মাহিরকে নিয়ে ঈদের জামাতে এসেছিলেন উত্তর কলাবাগানের বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ছেলেদের নিয়ে নামাজ আদায় করলাম। খুব ভালো লাগছে। আমাদের এই মাঠে অন্য কিছু হচ্ছে না। আমাদের সন্তানেরা আবার এই মাঠে দৌড়াদৌড়ি করবে, খেলবে আর আমরাও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে এই মাঠ ব্যবহার করতে পারব, এটাই অনেক আনন্দের।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন