করোনা মহামারির আতঙ্ক অনেকটাই কেটে যাওয়ায় এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রচুর মানুষ গ্রামে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ২৮–৩০ এপ্রিলের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সে হিসেবে যাঁরা রাজধানী ছেড়ে যাবেন, তাঁদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে গতকাল ছিল ঈদ কেনাকাটার এক মোক্ষম সময়। এদিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে মানুষের কেনাকাটার চিত্রেও তেমনটিই বোঝা গেল।

গতকাল দুপুরের পর রাজধানীতে শুরু হয় কালবৈশাখী। সকাল থেকে রোদ থাকায় বৃষ্টির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিয়ে বের হননি অনেকে। তাঁদেরই একজন আশামণি। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘শুক্রবার ছাড়া সময়ও পাই না। জানতাম আজকে ভিড় হবে। কিন্তু এর সঙ্গে বৃষ্টিতে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেল।’

এই ঝড়–বৃষ্টির মধ্যেও বসুন্ধরা শপিং মল লোকে গিজ গিজ করছে। কয়েকটি আউটলেটে প্রচণ্ড ভিড়। এই বিপণিবিতানে আড়ংয়ের আউটলেটে পা ফেলা দায়। বিক্রয়কর্মীরাও কথা বলার ফুরসত পাচ্ছেন না। একজন বিক্রয়কর্মী বললেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে ভিড় বাড়ছে। তবে আজ (শুক্রবার) ভিড় আরও বেশি।’

এর আগে সকাল গড়াতেই ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারেও ঈদের ভিড় টের পাওয়া গেল। স্টাইল ইকো নামের একটি দোকানে একসঙ্গে চার পরিবার ঢুকেছে। পুরান ঢাকা থেকে এসেছেন নিহাল আহমেদ। মা ও বোন আছেন সঙ্গে। নিহাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল সকাল চলে এসেছি, যাতে দুপুরের মধ্যেই বাসায় ফিরতে পারি।’ এই বিপণিবিতানের বিক্রেতারা জানান, নিউমার্কেট এলাকার সংঘর্ষের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সীমান্ত স্কয়ারের দোকানগুলোতেও। সায়মা ফ্যাশন নামের এক দোকানের বিক্রয়কর্মী সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট কাস্টমার (ক্রেতা) আছে। ওই মারামারির কারণে সেই কাস্টমাররা এখনো আসতে পারেন নাই।’

এদিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী-দোকানকর্মীদের সংঘর্ষের রেশ কাটিয়ে নিউমার্কেট এলাকা স্বরূপে ফিরছে। গাউছিয়া মার্কেট এলাকার নূর ম্যানশনের নিচতলায় শিশুদের পোশাক বিক্রি হয়। সেখানে দুপুরের আগে দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষের স্রোত আপনা-আপনিই এগিয়ে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় এক দোকানে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতার জট কমাতে প্রতিটি পোশাকের গায়ে দাম সেঁটে রাখা হয়েছে। ক্রেতা দেখিয়ে দিলে তবেই নির্দিষ্ট পোশাকটি নামানো হচ্ছে।

চন্দ্রিমা সুপারমার্কেটের এম এস কালেকশনের বিক্রেতা শাহেদ হোসেন দুপুর ১২টায় বলেন, প্রথম দুই ঘণ্টায় তাঁর দোকানে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। সংঘর্ষের ঘটনার কথা উল্লেখ করে চন্দ্রিমার এক বিক্রয়কর্মী মো. রাসেল বলেন, ‘যা ক্ষতি হওয়ার হইছে। কালকে (গত বৃহস্পতিবার) কাস্টমার তেমন আসে নাই। এখন আজকে বেচা হইলেই খুশি।’

নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি এখনো আছে। এ ছাড়া মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা চোখে পড়ল। সংঘর্ষের সময় অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল, ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতাপক্ষের দুর্ব্যবহার। গতকাল দেখা যায়, ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে, ক্রেতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার জন্য। নয়তো অভিযোগ পেলে সমিতি আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

সংঘর্ষের কারণে বিক্রেতাদের আচরণ কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন ক্রেতা। সেন্ট্রাল রোড এলাকা থেকে আসা কর্মজীবী শেফালি রহমান নিউমার্কেট, গাউছিয়া এলাকা থেকেই নিয়মিত কেনাকাটা করেন। তিনি দোকানকর্মীদের হাঁকডাকে শান্ত ভাব লক্ষ করেছেন বলে প্রথম আলোর কাছে মন্তব্য করেন। কয়েকটি খাবারের দোকানের কর্মীদের দেখা গেল, হাতের ইশারায় ক্রেতাদের ডাকতে।

চাঁদনি চকের গজ কাপড়ের দোকানের ভিড় কমেছে। তবে ওড়নার দোকানগুলোয় বেশ ভিড় ছিল গতকালও। এ এলাকার দোকানের ভিড়ের চেয়ে ফুটপাতের দোকানেই ভিড় যেন বেশি চোখে পড়ল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন