default-image

পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং দুই বন্ধু। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলল তারা। পিঁপড়া তার আইডির নাম দিল ‘অর্থহীন পিপীলিকা’, আর ঘাসফড়িং তার আইডির নাম দিল ‘ড্রিমবয় হপার’। টাইমলাইনে প্রতিদিন মেয়েদের এডিট করা ছবি দেখে দেখে পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং মিনিটে মিনিটে ক্রাশ খেতে লাগল। ঘাসফড়িং একদিন নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আফসোস করে বলল, ‘আহা, এ রকম একটা মেয়েরে পাইলে লাইফে আর কী লাগে!’ এ কথা শুনে পিঁপড়া বলল, ‘তাইলে দোস্ত চল, আমরা ফেসবুকিং বাদ দিয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করি। লেখাপড়া শেষ করে ভালো কোনো চাকরি পেলে আমরাও এ রকম সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে পারব।’

ঘাসফড়িং মাথা নাড়ল, ‘উহু, আমার পক্ষে চার বছর অপেক্ষা করা পসিবল না। আমি এখনই একটা মেয়ের প্রেমে পড়তে চাই।’

অতঃপর একদিকে পিঁপড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে লাগল; অন্যদিকে ঘাসফড়িং ফেসবুকে সারা দিন মেয়েদের ইনবক্সে ইনবক্সে নক করতে শুরু করল। বন্ধুর ডিএসএলআর ক্যামেরা তুলতে লাগল ছবি। সেগুলো আপলোড করতে লাগল প্রোফাইল পিকচার হিসেবে। সঙ্গে দিতে লাগল লুতুপুতু রোমান্টিক স্ট্যাটাস। কিছু কিছু মেয়ে পছন্দ করে ফেলল ঘাসফড়িংকে। তার দিন কাটতে লাগল চ্যাটিং আর ডেটিং করে। এভাবে পেরিয়ে গেল পুরো চার বছর।

অনার্স ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট দিল। পিঁপড়া ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছে আর ঘাসফড়িং কোনোমতে টেনেটুনে থার্ডক্লাস। ভার্সিটি থেকে বের হয়েই পিঁপড়ার সরকারি চাকরি হয়ে গেল। বিয়ে করে ফেলল পরির মতো সুন্দর এক মেয়েকে। আর অন্যদিকে ঘাসফড়িং অল্প বেতনে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল। তার দিন কাটতে লাগল ঢাকার একটা মেসে একা একা। কোনো মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। তার যেসব গার্লফ্রেন্ড ছিল, তাদের সবারই বড় বড় চাকরিওয়ালা ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে।

প্রায় দুই বছর পরের কথা। ঘাসফড়িং এক রাতে ফেসবুকিং করছিল। নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করেই তার একটা ছবিতে এসে চোখ আটকে গেল। বন্ধু পিঁপড়া ভীষণ সুন্দরী এক মেয়ের সঙ্গে কাপল পিক আপলোড করেছে। ক্যাপশনে লেখা: ‘বিয়ের আগেই হোক আর পরে; কোনো মেয়ের প্রথম প্রেম হতে পারার অনুভূতি আসলেই স্বর্গীয়।’

ঘাসফড়িং সেখানে কমেন্ট করল, ‘আহা দোস্ত, তোমারই তো ভাগ্য। ইউ আর সো লাকি ম্যান। ইশ্‌, আমিও যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে পারতাম!’ পিঁপড়া কমেন্টের রিপ্লাই দিল, ‘যখন লেখাপড়া করার টাইম ছিল, তখন তুমি ফেসবুকিং করে কাটিয়ে দিয়েছ, এখন আর আফসোস করে কী লাভ? সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার ফল কখনো ভালো হয় না।’

ঘাসফড়িং রিপ্লাইয়ে কী লিখবে ভাবছিল। এমন সময় মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ। একটা মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে। পাঠিয়েছে পিঁপড়ার স্ত্রী ‘অ্যাঞ্জেল খরগোশ’। মেসেজ রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে ঘাসফড়িং লেখাটা পড়ল, ‘প্লিজ হপার, তোমার সাথে ভার্সিটি লাইফে আমার যে দুই বছর প্রেম ছিল, সেটা তুমি পিঁপড়াকে বোলো না, প্লিজ! তুমি আমার সংসার ভেঙো না, প্লিইইইজ!’

মোরাল অব দ্য স্টোরি: লেখাপড়া শেষ করে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্যের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন