default-image

কক্সবাজারের উখিয়ার সোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের স্কুল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর হয়েছে ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের গাড়ি। আজ রোববার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া সংঘর্ষকালে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি ও স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় আবু ছৈয়দ ফজলী ও মো. কালু নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করেছে পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, সোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নতুন একটি স্কুল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, সোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি বহুতল ভবন তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাঁরা চান না ওই জমিতে স্কুল ভবন হোক। সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে নিয়ে জমির বিরোধের নিষ্পত্তিও করেন। তারপরও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, সোনাপাড়ার স্কুল মাঠ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিসহ আন্দোলন চলছে। মাঠ রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন (সমন্বয়ক) মোহাম্মদ হোসেন। হামলার সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সোনাপাড়া স্কুল মাঠটিকে এলাকার মানুষ খেলাধুলা, ঈদগাহ ও জানাজার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে। আশপাশে জমি থাকার পরও মাঠে স্কুল ভবন তৈরির প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলন করছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠের একপাশে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় আবু ছৈয়দ ফজলী ও মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল নির্মাণকাজে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। এতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলন বড়ুয়া, সহকারী শিক্ষক বাবুল ও শামশুল আলম আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের কক্ষও ভাঙচুর করে ও সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায়।

এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান। পরে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং লাঠি চার্জ করে। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ও বেশ কয়েকজন আহত হন। গুলিবিদ্ধ পাঁচজন হলেন সোনাপাড়ার দেলোয়ার হোসেন (১৫), ফয়সাল আহমদ (২০), হাসিনা আক্তার (৩০), কবির আহমদ (৩৪) ও আবদুস ছবি (১৪)। তাঁদের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ ঘটনাস্থলে যান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন