উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ১৭ লাখ ৩ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনল সরকার। বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিভাগ—এ দুই ক্যাটাগরিতে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম উচ্চমাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১৩ কোটি টাকা, যা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
উপবৃত্তির আওতায় বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মাসিক বৃত্তি ১৭৫ টাকা ও টিউশন ফি বাবদ ৫০ টাকা পাবে। পাশাপাশি বই কেনা ও পরীক্ষা ফি বাবদ এককালীন ১ হাজার ৬০০ টাকা পাবে। অন্যান্য বিভাগের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী মাসে ১২৫ টাকা বৃত্তি ও ৫০ টাকা টিউশন ফি পাবে। এককালীন বই কেনা ও পরীক্ষা ফি বাবদ ১ হাজার ২০০ টাকা পাবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত মোট ছাত্রীর মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ছাত্রদের মধ্যে ১০ শতাংশ এই উপবৃত্তি পাবে। এই উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ে নয়টি শর্ত থাকবে। এগুলো হলো পিতামাতা বা অভিভাবকদের জমির পরিমাণ ৭৫ ডেসিমেলের কম, বার্ষিক আয় এক লাখ টাকার কম, এতিম-অনাথ এমন দুস্থ অসহায় গোষ্ঠী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, উপার্জনে অসমর্থ বা বিকলাঙ্গ পিতামাতার সন্তান, নদীভাঙন-কবলিত বা বাস্তুহারা ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তান, রিকশাচালক-দিনমজুর এমন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী অভিভাবকের সন্তান, চরম প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি।
একনেকের সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুমোদিত এই প্রকল্প ছাড়াও উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আরও পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মাধ্যমিক এবং একটি করে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে চলমান রয়েছে। যেসব এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থী এখনো এসব উপবৃত্তির আওতায় আসেনি, তাদেরও পর্যায়ক্রমে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় আনা হবে।’
এ প্রকল্পটিসহ গতকাল একনেকে মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, যা সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৫৫৮ কোটি টাকার সরকারি বিদ্যালয়হীন ৩১৫টি উপজেলা সদরে অবস্থিত নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহকে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, ৪৪ কোটি টাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ৭ মার্চ ভবনের অবশিষ্টাংশ নির্মাণ প্রকল্প, ৫৫ কোটি টাকার পাকুল্লা-দেলদুয়ার-এলাসিন সড়কের ১২তম কিলোমিটারে এলেনজানী নদীর ওপর ৯৩ দশমিক ০২ মিটার নাল্লাপাড়া পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং বালিয়া-ওয়ার্শি-মির্জাপুর সড়কে দুটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ১০৭ কোটি টাকার এস্টাবলিশমেন্ট অব রুরাল ডেভেলেপমেন্ট একাডেমি অ্যাট রংপুর এবং ৭০ কোটি টাকার নীলফামারী ও নেত্রকোনা জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন ও রংপুর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন