default-image

দেশের নিম্ন আদালতে বেশির ভাগ রায় ও আদেশ হয় বাংলায়। এখন উচ্চ আদালতেও বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। হাইকোর্ট বিভাগের অন্তত দুজন বিচারপতি নিয়মিত বাংলায় রায় ও আদেশ দেন। এর বাইরে কয়েকজন বিচারপতি বাংলায় নিয়মিত আদেশ দিচ্ছেন। তাঁরা প্রায়শ বাংলায় রায়ও দেন। এক দশক আগেও উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় ও আদেশের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৯২ জন বিচারপতি আছেন।

সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীরা যাতে রায় বুঝতে ও জানতে পারেন, সে জন্য ইংরেজিতে দেওয়া রায় বাংলায় অনুবাদ করতে সুপ্রিম কোর্টে যুক্ত হয়েছে নতুন সফটওয়্যার। ‘আমার ভাষা’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের রায়গুলো বাংলায় অনুবাদ করা যাবে।

ভাষার মাস চলতি ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকেও বাংলায় রায় দেওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা সাত। আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে একটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি চলতি মাসে একাধিক মামলায় বাংলায় রায় দিয়েছেন। আপিল বিভাগের অপর বেঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তিনিও চলতি মাসে বাংলায় রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

*মোগল আমলে আইন-আদালতের ভাষা ছিল ফারসি। ইংরেজ আমলে ইংরেজি ভাষা চালু হয় *মোগল আমলে চালু হওয়া আইন, আদালত, পেশকার শব্দের মতো ফারসির অনেক শব্দ এখন বাংলা হিসেবে প্রচলিত *২০২০ সালে পাঁচ হাজারের বেশি রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। প্রতি সপ্তাহে আড়াই শ থেকে তিন শ মামলায় বিভিন্ন আদেশ বাংলায় দিয়ে যাচ্ছেন তিনি
বিজ্ঞাপন

বাংলা ভাষায় রায়-আদেশের পূর্বাপর

আইনজীবী ও বিচারালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়াত বিচারপতি এ আর এম আমীরুল ইসলাম চৌধুরী নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হাইকোর্টে বাংলায় আদেশ দেওয়া শুরু করেন। এরপর সাবেক বিচারপতিদের মধ্যে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, বিচারপতি হামিদুল হক, বিচারপতি আবদুল কুদ্দুছ, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বাংলায় বেশ কয়েকটি রায় দেন। বিচারপতি খায়রুল হক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল, স্বাধীনতার ঘোষণা, স্বাধীনতাযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ, চার নদী সংরক্ষণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় বাংলায় দেন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালে দেওয়া রায় বাংলায় লিখেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম গত বছর বিভিন্ন মামলার পাঁচ হাজারের বেশি রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে আড়াই শ থেকে তিন শ মামলায় বিভিন্ন আদেশ বাংলায় দিয়ে যাচ্ছেন এই বিচারপতি।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৬ সালের ১৫ জুন গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার রায় দেন। সেই রায়ও বাংলায় দেওয়া হয়।

দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের মামলা। এই মামলায় হাইকোর্টের তিন বিচারপতির দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার, যেখানে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী বাংলায় রায় (১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠা) লিখেছেন। এই বিচারপতি ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পরের বছর থেকেই ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বেশির ভাগ আদেশ ও রায় বাংলায় দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়া শুরু করেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে তিনি বাংলায় রায় ও আদেশ দেন। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও বাংলায় রায় ও আদেশ দিচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলায় রায় ঘোষণা করেন তিনি।

২০১০ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন যোগদানের পর নিয়মিত বাংলায় রায় ও আদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন তিনি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে মামলায় ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতি রায় দেন। তিন বিচারপতির মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল বাংলায় রায় লেখেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত বাংলায় রায় ও আদেশ দিচ্ছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বেশ কয়েকজন বিচারপতি বাংলায় রায় ও আদেশ দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, তাঁদের মধ্যে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান, বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহ, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী, বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান, বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেন রয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা’ হিসেবে পরিচিত মামলাটি হয়েছিল ১৯৩০ সালে। ‘জিলা ঢাকার প্রথম সাবজজ আদালতে’ করা ওই মামলার আরজি বাংলায় লিখেছিলেন বাদী কুমার শ্রী রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। আরজির অংশবিশেষ ছিল, ‘মোকদ্দমা মুলতবী থাকাকালে বিবাদীগণ যাহাতে বাদীর দখল সম্বন্ধে কোনরূপ বিঘ্ন জন্মাইতে না পারেন, তন্মর্ম্মে বিবাদীগণের উপর অস্থায়ী নিষেধ আজ্ঞা প্রচার করিবার আজ্ঞা হয়’। এই মামলায় বাংলায় জবাব দিয়ে বিবাদীপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মোগল আমলে আইন-আদালতের ভাষা ছিল ফারসি। পরে ইংরেজ আমলে ইংরেজি ভাষা চালু হয়। তবে মোগল আমলে চালু হওয়া আইন, আদালত, পেশকার শব্দের মতো ফারসির অনেক শব্দ এখনো বাংলা হিসেবেই প্রচলিত হয়ে গেছে।

*১৯৩০ সাল: ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা’র আরজি বাংলায় লেখা হয়। বাংলায় জবাবও দেয় বিবাদীপক্ষ *স্বাধীন বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রয়াত বিচারপতি এ আর এম আমীরুল ইসলাম চৌধুরী হাইকোর্টে বাংলায় আদেশ দেন *২০১০ সাল থেকে ১০ বছরে প্রায় ১৫ হাজার রায় ও আদেশ বাংলায় দিয়েছেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন
উচ্চ আদালতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষার ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। অন্য ভাষা থেকে বাংলায় ভাষান্তর করতেও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। উচ্চ আদালতে এখন বাংলায় রায় দেওয়া বাড়ছে। আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়মিত চর্চা ও অনুশীলনের বিষয়।
এম আমীর-উল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী

পরিভাষা ও আইন–শব্দকোষ

বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষার অপ্রতুলতার পাশাপাশি মানসিকতাকেও বড় অন্তরায় হিসেবে মনে করেন আইন ও বিচারালয়–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এমন প্রেক্ষাপটে ইংরেজি শব্দের সাড়ে চার হাজার নতুন বাংলা পরিভাষা নিয়ে আইন–শব্দকোষের দ্বিতীয় সংস্করণ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে আইন কমিশন।

বাংলা ভাষায় আইনি পরিভাষার মৌলিক গ্রন্থ আইন-শব্দকোষ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় প্রথম সংস্করণে ছয় হাজার পরিভাষা ছিল। ভূমিকায় বলা হয়, এ দেশে আইনি বিষয়ে দেশের প্রচলিত প্রথা ও আইনের সঙ্গে বিদেশ থেকে আহরিত আইন ও নীতির মেলবন্ধনের একটি প্রয়াস লক্ষ করা হয়। ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে হিন্দু ও মুসলিম পারিবারিক আইনে আক্ষরিক ব্যাখ্যার প্রবণতা ছিল। পরবর্তীকালে সমাজ পরিবর্তনের ধারায় তাকে যুগোপযোগী করার প্রয়াস দেখা যায়। এর আগে আন্তর্জাতিক আইন পরিভাষা কোষ ১৯৭০ সালের আগস্টে প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। ওই বছরের জুনে আইন পরিভাষা কোষ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি।

১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমাদের হাতে যেদিন ক্ষমতা আসবে, সেদিন থেকেই দেশের সব স্তরে বাংলা ভাষা চালু হবে।...সে বাংলা যদি ভুল হয়, তবে ভুলই চালু হবে, পরে তা সংশোধন করা হবে।’

বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায় দেশের সংবিধানে। সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদ বলছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন নামে আইনও করা হয়। আইনের ৩(১) ধারা বলছে, এই আইন প্রবর্তনের পর দেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন–আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন এখনো দেখা যায় না।

আইন-শব্দকোষের দ্বিতীয় সংস্করণের সম্পাদকমণ্ডলীতে ছিলেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং আইন কমিশনের সাবেক ও বর্তমান দুজন সদস্য। ১০ হাজারের বেশি পরিভাষা নিয়ে আইন কমিশন কর্তৃক গত নভেম্বরে প্রকাশিত আইন-শব্দকোষের দ্বিতীয় সংস্করণটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে।

বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষার অপ্রতুলতা ও মানসিকতা একধরনের অন্তরায় বলে মনে করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলায় রায় ও আদেশ লেখার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে একধরনের হীনম্মন্যতা কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বেঞ্চ কর্মকর্তাদের অদক্ষতাও আছে। পিলখানা হত্যা মামলার মতো বড় মামলায় হাজার হাজার পৃষ্ঠার রায় যাঁরা বাংলায় লিখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। সদিচ্ছা থাকলে অধস্তন আদালতের মতো উচ্চ আদালতেও বাংলায় রায়-আদেশ লেখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

অনন্য উদ্যোগ ‘আমার ভাষা’ সফটওয়্যার

গত বছরের ৪ নভেম্বর ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় বাংলায় অনুবাদের ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।

‘আমার ভাষা’ সফটওয়্যারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছিলেন, এই অনুবাদ প্রকল্পের উদ্বোধন উচ্চ আদালত তথা আইন অঙ্গনে গণমানুষের প্রবেশাধিকার মসৃণতর করবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ভারতীয় হাইকমিশন সফটওয়্যারটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েছে, যা এখন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে জাতীয় ডেটা সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই সফটওয়্যারের মাধ্যম ৭০ ভাগ সঠিক অনুবাদ হয়। বাকিটুকু ম্যানুয়ালি ঠিক করে নিতে হবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাষা’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ইংরেজিতে দেওয়া রায় বাংলায় অনুবাদ করা যাবে। রায়গুলো বাংলায় অনুবাদ করে জনসাধারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রচার করা হবে। সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে ইতিমধ্যে অনুবাদকদের দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে অনুবাদ করেছেন, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ আদালতে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষার ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। অন্য ভাষা থেকে বাংলায় ভাষান্তর করতেও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। উচ্চ আদালতে এখন বাংলায় রায় দেওয়া বাড়ছে।

তিনি বলেন, আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়মিত চর্চা ও অনুশীলনের বিষয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন