বসন্তের বিকেল। পুবালি বাতাস বইছে। আকাশে দলছুট মেঘের ওড়াউড়ি। এক পাশে কালনী নদী আর অন্য পাশে সবুজ ফসলের হাতছানি। মাঝখানে একচিলতে মাঠ। মাঠ থেকে ভেসে আসছে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের গানের সুর, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে, সই গো বসন্ত বাতাসে...।’
শাহ আবদুল করিমের জন্মস্থান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব।’ দূর-দূরান্ত থেকে উৎসবে এসে মিলিত হয়েছেন করিমের ভক্ত-অনুরাগীরা। উজানধলের বাতাসে বইছে বাউল করিমের গানের সুর।
বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের পৃষ্ঠপোষকতায় এই উৎসবের আয়োজন করেছে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম পরিষদ। বিকেলে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) আহমেদ উল্লাহ।
বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি শাহ নূর জালালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলতাব হোসেন, গ্রামীণফোন সিলেট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান, বাউল আবদুল তোয়াহেদ। বক্তারা দিরাই শহরের কেন্দ্রস্থলকে ‘শাহ আবদুল করিম চত্বর’ হিসেবে নামকরণের দাবি জানান।
উদ্বোধনের পর ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম...’ দিয়ে শুরু হয় বাউলসম্রাটের জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা। এরপর একে একে করিমের শিষ্য-ভক্তরা ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না’, ‘মহাজনে বানাইয়াছে ময়ূরপঙ্খী নাও’, ‘তুমি বিনে আকুল পরান’, ‘আমি বাংলা মায়ের ছেলে’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে, দিওয়ানা বানাইছে’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলা রে বন্ধু’, ‘আসি বলে প্রাণ বন্ধু আইলায় না’, ‘সুখ বসন্ত সুখের কালে আইলায় না রে বন্ধু’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
আজ শনিবার বিকেলে আলোচনা ও রাতভর বাউল করিমের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দুই দিনের উৎসব শেষ হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন