প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। খালেদা জিয়া মনে করছেন, সেখান থেকে কেউ এসে তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। তিনি যাদের নিয়ে ভাবেন, তারাও জানে এভাবে ক্ষমতায় এলে পরিণতি কী হয়। অতীতে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদেরও খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। অনেককে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এভাবে আগুনে কেউ পা দিতে আসবে বলে মনে করি না।’
গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও সমঝোতার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের উদ্যোগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুশীল সমাজের ১৩ জনের একটি তালিকা দেখলাম। জানি না, এই সুশীলের সংজ্ঞা কী। আমরা আগের বার (’৯৬ সালে) যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন এঁদের কেউ কেউ সচিব ছিলেন। অনেকে পদ-পদবির জন্য, পদোন্নতির জন্য তদবিরও করেছেন। কিছু দিনের জন্য হলেও কেবিনেট সেক্রেটারি হতে চেয়েছেন। সরকারি চাকরি শেষ হলেই তাঁরা সুশীল হয়ে যান। তাঁদের কাছ থেকে এখন আমাদের সবক নিতে হবে। তবে মানুষ সচেতন। কেউ তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির নেত্রী দেশের জনগণের পরিবর্তে বিদেশি প্রভুদের দিকে তাকিয়ে আছেন। যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর এত আশা, সেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তাঁকে নাশকতা-সহিংসতা ও মানুষ হত্যা বন্ধ করতে বলেছেন। যে প্রভুদের দিকে উনি তাকিয়ে আছেন, তারা মুক্তিযুদ্ধেরও বিরোধিতা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী অবরোধ দিয়ে নিজেই অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। ওনার আশা ছিল, তাঁকে কেউ এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। সুশীল বাবুদের কেউ কেউ ওনাকে দেখতে গেছেন। আমার চাচাও (ড. কামাল) গেলেন। ভেবেছিলাম কামাল হোসেন যেহেতু হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে বলেন, খালেদা জিয়াকে তা বন্ধ করতে বলবেন। তাঁরা এত ন্যায়নীতির কথা বলেন, ছেলেমেয়েরা যে পরীক্ষা দিতে পারছে না, একটি বারও সে কথাটি বললেন না।’ তিনি বলেন, হয়তো তাঁরা মনে করছেন, এভাবে খালেদা জিয়া ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে দেশে কিছু একটা ঘটবে। অনেকের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়তে পারে। কিন্তু তাদের সেই আশা কোনো দিন পূরণ হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ভেবেছিলেন, ভারতে মোদি ক্ষমতায় এসেছেন। এবার একটা কিছু হবে। কিন্তু বিজেপির সভাপতির ফোন নিয়ে ধরা পড়ে গেলেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কথাসাহিত্যিক রাহাত খান, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন