default-image

ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, নতুন নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ পেয়ে রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার এ অভিযানের পাশাপাশি সারা দেশে আরও পাঁচটি অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংস্থার হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ পেয়ে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

রাজধানীর উত্তরায় বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময় দুদকের দলটি দেখতে পায়, ওই দপ্তরে দালালের দৌরাত্ম্য রয়েছে। দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দালাল দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, তাঁদের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দী হয়ে আছে। দিনের পর দিন ঘুরেও তাঁরা তাঁদের সেবা পাননি। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য তিনজন ছাত্রের ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা পড়ে ছিল অনেক দিন ধরে। দুদক দলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে সেটা সমাধান করা হয়। এ ছাড়া একজন সেবাপ্রার্থী তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশোধনের জন্য আবেদন করে বেশ কয়েক দিন ধরে ঘুরলেও তার সমস্যার সমাধান হয়নি। সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

রাজশাহীতে পরিবেশ বন ও মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাহেরপুর শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের প্রকল্পের বরাদ্দ প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং বাঁধটির ৪১৫ মিটারের মধ্যে ৪০০ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প পরিদর্শনে দেখা যায়, অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় ৩ মাস যেতে না যেতেই বাঁধের প্রায় ৬০ ভাগ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধের অন্যান্য অংশেও ফাটল দেখা দিয়েছে। দুদকের দলটি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে এবং তা যাচাই করে অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

শেরপুর জেলার সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ৪০ দিনের প্রকল্পে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদকের আরেকটি দল। নন্দীজোড় গাজী মেম্বারের বাড়ি থেকে খাসপাড়া কামারপাড়া দেলোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। এতে ৮০ জন উপকারভোগীর কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ১৮ জনকে কাজ দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে । এ ছাড়া আরও চার-পাঁচটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বা-ছাই করছে দুদকের দলটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের ক্যানটিনের খাদ্যদ্রব্যের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা এবং কাঁচামাল বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পেয়ে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, কারা ফটকের বাইরে অবস্থিত ক্যানটিনে মূল্য তালিকা খাতায় যা লেখা হয়, বাস্তবে তার থেকে ২০ থেকে ৪০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ সম্পর্কে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা ঘটনা আমলে নিয়ে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে দুদক দলকে আশ্বস্ত করে।

এ ছাড়া ভুয়া সনদের মাধ্যমে শিক্ষক পদে নিয়োগ ও সেটেলমেন্ট অফিসে জমির নকশা, রেকর্ড, পরচা, শ্রেণি পরিবর্তন বাবদ ঘুষ গ্রহণ ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে নড়াইলে আরও দুটি অভিযান চালানো হয়।

এদিকে সরকারি খাসজমি দখল, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ধান সংগ্রহে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ সুরাহার জন্য পাঁচ জেলা প্রশাসককে এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে অনিয়ম, কোচিং-বাণিজ্য, পেনশন প্রদানে ঘুষ লেনদেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতি প্রতিরোধে ১০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0