default-image

উপজেলা পর্যায়ে সরকারের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির সভাপতিও তাঁরা। এতে প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের অনেক কাজ করতে হয়। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের ওপর অসন্তুষ্টও হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। এ জন্য ঝুঁকি বিবেচনায় ইউএনওদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনায় থাকলেও তা এত দিনে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পর সরকার দেশের সব ইউএনওর নিরাপত্তায় আনসার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের উপজেলাতেও আনসার মোতায়েন শুরু হয়েছে।

বর্তমানে সারা দেশে ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, আপাতত ৪ জন করে সশস্ত্র আনসার নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ইউএনওরা চাচ্ছেন ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন করা হোক। প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে শুক্রবার ভার্চ্যুয়াল সভা করে এই দাবি জানিয়েছেন ইউএনওরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউএনও প্রথম আলোকে এ কথা বলেন।

উদ্বিগ্ন ইউএনওরা

ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পর অনেক ইউএনও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, একজন ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা হলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে।

নীলফামারীর সদর উপজেলার ইউএনও এলিনা আকতার ঘোড়াঘাটের প্রসঙ্গে টেনে প্রথম আলোকে বলেন, আগে তো এমন হয়নি। তাই কিছুটা উদ্বেগ তো কাজ করছেই। তিনি জানান, তাঁর এখানে আনসার নিয়োগের জন্য চিঠি এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত (শুক্রবার বিকেল) মোতায়েন হয়নি। আসবে বলে যোগাযোগ করেছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁর এখানে শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচজন আনসার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজন দিনে ও তিনজন রাতে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের ইউএনও প্রত্যয় হাসান জানিয়েছেন, তাঁর এখানে দুজন অস্ত্রধারীসহ মোট চারজন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার অনুশাসন দিয়েছিলেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সবার কাজই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইউএনওদের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কাজ করতে হয়। তাঁদের কাজে স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়। এ জন্য ইউএনওদের অধিকতর নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। তাঁদের বাসায় নিরাপত্তার পাশাপাশি গানম্যানও দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন