default-image

শুধু উদ্ভাবন করলেই হবে না, উদ্ভাবনকে সহজতর করে শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান মো. আফতাব আলী শেখ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত হস্তান্তরের মাধ্যমেই উদ্ভাবনের সুফল মিলবে। এতে খামারি ও উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

প্রযুক্তিগত হস্তান্তরবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি আফতাব আলী শেখ এসব কথা বলেন। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবের বিসিএসআইআরের প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রান্সফার অ্যান্ড ইনোভেশনের (আইটিটিআই) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। এর  ‘অ্যাডপ্টিভ রিসার্চ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর: বর্তমান সরকারের ভূমিকা ও রূপকল্প ২০৪১’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে আইটিটিআই।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে আইটিটিআইয়ের চারটি প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো ইনডোরে মাছ চাষ (রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার), মাটিহীন ঘাস-সবজি চাষ (হাইড্রোপনিক প্রোডাকশন), প্রোটিন–সমৃদ্ধ ক্ষুদ্র শেওলা উৎপাদন (মাইক্রোএলগি), ড্রায়ার দিয়ে শুঁটকি চাষ (হিট পাম্প ড্রায়ার)। আইটিটিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম সেমিনারে এসব প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, শিল্পোদ্যোক্তার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আইটিটিআই কাজ করছে। ইনডোরে মাছ চাষ ও মাটিহীন ঘাস চাষে ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র খামারি ও শিল্পোদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন, আছে সফল হওয়ার গল্পও।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইমুম হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সঙ্গে আর্থিক বিশ্লেষণের যোগসূত্র আছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বিজনেস মডেল অ্যানালাইসিস, টেকনো-ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগের পূর্বেই ব্যবসার ধরন সম্পর্কে ধারণা এবং সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।’

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে কথা হয় কল্যাণপুরের খামারি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে। তাঁর ২২টি গাভির জন্য তিনি খামারেই মাটিহীন ঘাস চাষ করেন। কীটনাশক ও পরজীবীমুক্ত সেই ঘাস খেয়েই তাঁর খামারের গবাদিপশুর নিরাপদ খাদ্য যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি দুধের উৎপাদনও গেছে বেড়ে।

মাহবুব উদ্দিন জানালেন, মাটিহীন ঘাস চাষে লাভ বেশি হয় এবং নিরাপদ দুধ পাওয়া যায়। বাঁশের মাচায় ৩২টি ট্রেতে প্রতিদিন তার প্রায় ৮ থেকে ৯ কেজি ঘাস উৎপাদিত হয়। বিসিএসআইআর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এই চাষ শিখেছেন বলে জানান তিনি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিসিএসআইআরের সদস্য মুহাম্মদ শওকত আলী। সেমিনারে আইটিটিআইয়ের বিভিন্ন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0