পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বেশ কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদিবাসীরা। মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভাষা গবেষকেরা বলেছেন, একটি জাতি বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। তাই আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণ জরুরি।
কয়েকজন গবেষক ও আদিবাসী গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকে পাবনা জেলা সদর, চাটমোহর, ঈশ্বরদী, ভাঙ্গুড়া ও আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষ বাস করত। এখনো মাহাতো, লহড়া, মুন্ডা, রাজবংশী, মালো, বাগদি, বিন্দু, মালপাহাড়িসহ বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর লক্ষাধিক লোক বাস করছেন। তাঁরা কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে উচ্চশিক্ষাও নিয়েছেন। তবে সংরক্ষণ ও চর্চার ব্যবস্থা না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে তাঁদের মাতৃভাষা।
আদিবাসী-অধ্যুষিত বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে মাহাতো, লহড়া, কর্মকার, পাটনি, মুন্ডা, চূর্ণকারসহ বেশ কিছু সম্প্রদায়ের লোক বাস করেন। তাঁদের মাতৃভাষা ‘নাগরি’। অনেকে এটাকে ‘সাদরি’ বলেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার মারমিপাড়ায় বাস করে মালপাহাড়ি গোষ্ঠীর প্রায় ২০টি পরিবার। তাদের মাতৃভাষা ‘পাহাড়িয়া’। দুটি এলাকাতেই পরিবারগুলোর প্রবীণ সদস্যরা নিজ ভাষায় কথা বলেন। তবে তাঁদের নতুন প্রজন্ম ওই ভাষায় আর কথা বলতে পারছে না।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি রামপ্রসাদ মাহাতো জানান, ইতিমধ্যেই বাগদি ও বিন্দু সম্প্রদায়ের ভাষার অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না।
রামপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা সরকারের কাছে আমাদের মাতৃভাষা রক্ষার দাবি জানাচ্ছি। গত বছর মাতৃভাষা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক স্মারকলিপিতে আদিবাসীদের জন্য পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নিজ ভাষার পাঠ্যবই প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।’
মালপাহাড়ি গোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষক সমর বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ে আদিবাসী শিশুদের নিজ ভাষার কোনো বই নেই। পাঠ্যতালিকায় প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজ ভাষার অন্তত একটি বই থাকলেও তারা তাদের মাতৃভাষা সম্পর্কে জানতে পারত।
আদিবাসী গবেষক নুরেশ মধু বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করলেও তাঁদের ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয় না। তাই এসব সংরক্ষণের জন্য সরকারকেই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন