বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পেন ওয়াই ফ্যানের প্লেনারি-২-তে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস (কপ–২৬) সম্মেলনের ২৬তম অধিবেশনে জাতীয় বিবৃতি দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী চারটি প্রস্তাবের মধ্যে প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তিনি গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাঁর সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের এনডিসি আপডেট, ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে জাতীয় শক্তির ৪০ শতাংশ নেওয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুও টানেন এবং মিয়ানমারের এ নাগরিকদের ধারণ করেই বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ–২৬। ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, প্রতিনিধি এবং প্রচারকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

শীর্ষ সম্মেলনে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি–২০ (দ্য ভালনারেবল–২০)–এর সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০: ৫০ ভারসাম্য রেখে বার্ষিক ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং সিভিএফ দেশগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়বদ্ধতা ভাগ করে নেওয়াসহ লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী নির্গমনের শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশের কম অবদান রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০০৯ সালে “বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড” প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত সাত বছরে আমরা জলবায়ু সম্পর্কিত ব্যয় দ্বিগুণ করেছি।’ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাঁর সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছি। সম্প্রতি আমরা একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও যুগোপযোগী এনডিসি জমা দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এটি জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে টেকসই ও জলবায়ু সমৃদ্ধির পথে যাত্রা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি দেশের স্বার্থ প্রচার করছি। গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপ্টেশনের ঢাকার দক্ষিণ এশিয়া অফিসের মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিকভাবে সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অভিযোজন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে চলেছি। সিভিএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ একটি জলবায়ু জরুরি চুক্তির চেষ্টা করছে।’

জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ সব দেশের চাহিদার স্বীকৃতির দাবি

এর আগে গতকাল স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় কপ-২৬ সম্মেলনস্থলের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে ‘সিভিএফ-কমনওয়েলথ হাই-লেভেল ডিসকাশন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উন্নত দেশগুলোর প্রতি জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ সব দেশের চাহিদার স্বীকৃতির দাবি উত্থাপন করেন। তিনি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে প্রাধান্য দিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তব্যে সিভিএফের চেয়ার শেখ হাসিনা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য ছয় দফা প্রস্তাবও পেশ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং এসবের প্রভাব নাজুক দেশগুলোকে অপূরণীয় ক্ষতির অগ্রভাগে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক আন্তসরকারি প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন, যা স্পষ্ট বার্তা দেয় যে এই গ্রহ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে সবাইকে জরুরি ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এক-তৃতীয়াংশের বেশি সিভিএফ সদস্যদেশ কমনওয়েলথের সদস্য এবং এসব দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও অবদানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যৌথ প্রচেষ্টা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্যদেশগুলোর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন