প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিত্রকর্ম উপহার দেন ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ সাইফুল আলম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন ও অফিসার্স মেসের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার গণভবনে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিত্রকর্ম উপহার দেন ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ সাইফুল আলম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন ও অফিসার্স মেসের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার গণভবনে ছবি: ফোকাস বাংলা

দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের হাত থেকে সমাজকে রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একান্তভাবে দরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত দুটি আবাসিক ভবন ও একটি অফিসার্স মেসের উদ্বোধনকালে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের এ অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। পরে তাঁর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশকে জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে প্রত্যেক মানুষ পেট ভরে খাবে, হেসেখেলে সুন্দরভাবে বাঁচবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেটাই করতে চাই। তাই, দেশের শান্তি বজায় রাখা একান্তভাবে দরকার। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বা দুর্নীতি ও মাদকের হাত থেকে সমাজকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ জন্য আমাদের সবারই স্ব স্ব কর্মস্থলে দায়িত্ব রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশটাকে গড়তে হবে। আমাদের প্রত্যেকের যার যার দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাসকে জানতে হবে, দেশকে জানতে হবে, দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে হবে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।’

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী একান্ত অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিষ্ঠার সাথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি আপনারা কর্তব্য পালন করবেন, সেটাই আমাদের কামনা।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাসকে জানতে হবে, দেশকে জানতে হবে, দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে হবে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।’

ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ সাইফুল আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রতিরক্ষাসচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও পিএমও সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া অন্যান্যের মধ্যে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুধাবন করে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুর আগে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং জনগণের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। আমি এখন যা করছি, তা জাতির পিতার আদর্শের প্রতিচ্ছবি।’

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব বাংলাদেশের (সিবিসিবি) সভাপতি প্যাট্রিক ডি’রোজারিওর নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তিনি কুষ্ঠরোগীদের ঘর করে দিয়ে তাঁদের পুনর্বাসিত করেছেন। তিনি বলেন, সমাজে অবহেলিত বেদে এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে তিনি পুনর্বাসিত করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং এই পরিস্থিতিতে অসহায় ব্যক্তিদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0