উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম-নাগরিক সমাজ জরুরি: জার্মান রাষ্ট্রদূত

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত টমাস প্রিনজ বলেছেন, একটি দেশের উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ জরুরি। কারণ গণমাধ্যম অবাধ ও শক্তিশালী হলে তা সরকারকে উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার ওপর সরকারের চাপ নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন।
আজ সোমবার প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় টমাস প্রিনজ এ মন্তব্য করেন। প্রথম আলোর পঞ্চম তলার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। মতবিনিময়ের শুরুতে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির এই রাষ্ট্রদূত সূচনা বক্তব্যে দেন। এরপর তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সূচনা বক্তব্যে টমাস প্রিনজ বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি দেশের জন্য স্বাধীন ও সরকারের কাজের ইতিবাচক সমালোচক গণমাধ্যম থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সমাজের রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোথায় কী করা দরকার, সেটি গণমাধ্যমই আঙুল তুলে দেখিয়ে দেয়। একটি অবাধ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম থাকলে তা সরকারকে উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’
টমাস প্রিনজ বলেন, ‘দুই দেশের চমৎকার সম্পর্কের পরও বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া আমাদের কিছুটা উদ্বিগ্ন করছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমের ওপর চাপ, কার্যত কোনো বিরোধী দল না থাকা, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি সংস্থা বিষয়গুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করে। আমরা আশা করব সরকার এ বিষয়গুলোর নেতিবাচক দিকটিকে বিবেচনায় নেবে।’
জার্মানিতে আইএসের ঝুঁকি কতটা, জানতে চাইলে টমাস প্রিনজ বলেন, ‘আমাদের দেশেও আইএসের ঝুঁকি আছে। প্যারিসের হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জার্মানির সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ ছিল। সুখকর ব্যাপার হচ্ছে, আমরা তাদের প্রতিহত করতে পেরেছি। আইএস এখন শুধু পশ্চিমা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং সব মুসলিম দেশে অবস্থান করছে। তাই এদের বিরুদ্ধে লড়াইতে আমাদের শক্তি সমবেত করার বিকল্প নেই।’

ঢাকায় ঘুরতে ঝুঁকি বোধ করেন কি না, জানতে চাইলে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিদেশিদের ওপর হামলার আগে ঢাকায় চলাফেরার ক্ষেত্রে আমি বেশ স্বাভাবিক ছিলাম। এখন আমি বেশ সতর্ক। তবে সরকার নিরাপত্তা জোরদার করার পর গুলশান-বারিধারায় আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।’
জার্মান রাষ্ট্রদূত জানান, তিন দশক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময় ১৯৮৩ সালে শিক্ষানবিশ হিসেবে তিন মাসের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। ওই সময় তিনি ঢাকা ও টাঙ্গাইলে তৎকালীন জিটিজেডে (জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন