সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে জমির ওপরের অংশের মাটি কিনে নিচ্ছেন ইটভাটার মালিকেরা। এ ছাড়া অনেকে বাসা-বাড়ি নির্মাণের কাজেও কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করছেন। এতে জমি উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমির উপরিভাগের মাটিতে উর্বরতা শক্তি বেশি থাকে। জমির ওপরের দিকে আড়াই ফুট পর্যন্ত উর্বরতা শক্তি থাকলেও প্রথম ছয় ইঞ্চির মাটির উর্বরতা শক্তিই ফসল উৎপাদনের মূল শক্তি। তাই একবার জমির উপরিভাগের মাটি স্থানান্তর বা বিক্রি করা হলে সে জমির উৎপাদন শক্তি ফিরে পেতে সময় লাগে অন্তত ২০ বছর।
তবে ইটভাটার মালিকেরা বলছেন, নদী বা খাল থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি পেলে তাঁরা কৃষিজমির মাটি ইট তৈরির জন্য কিনতেন না।
এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার অনেক এলাকায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি হচ্ছে। কৃষকেরা সাধারণত বেশি টাকা পাওয়ার আশায় ইটভাটার মালিকের কাছে এসব মাটি বিক্রি করছেন। এ ছাড়া অনেকে বাসা-বাড়ি নির্মাণের সময়ও কৃষিজমি থেকে মাটি কিনে আনেন।
উপজেলার তেলিকোনা গ্রামের কৃষক সুরজ আলী বলেন, ‘আমরা জানতাম, মাটির ওপর আর নিচের গুণাগুণ একই। কিন্তু মাটির ওপরের গুণ বেশি, এটা আমাদের জানা ছিল না। তবে অভাবের কারণে আমরা মাটি বিক্রি করি।’
তবে উপজেলার জানাইয়া গ্রামের কৃষক কুরবান আলী জানান, কৃষিজমির মাটি বিক্রির প্রবণতা কমাতে হলে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। দিনের পর দিন জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে অনেক কৃষক জমির মাটি বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতি পোষানোর চিন্তা করেন।
আল-ফাল্লাহ ব্রিকস ফিল্ডের পরিচালক মনির আহমদ জানান, নদী বা খাল থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি বা সুযোগ নেই। ফলে ইট বানানোর জন্য বাধ্য হয়েই অধিক দাম দিয়ে কৃষিজমির মাটি কিনতে হয়।
নদী বা খাল থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি থাকলে, সরকারকেও নদী বা খাল পুনঃখননের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হতো না, আর ইটভাটার মালিকদেরও অধিক দামে মাটি কিনতে হতো না। এতে সর্বোপরি দেশের ইটভাটার মালিকেরা লাভবান হতেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মধু মিয়া জানান, নদী-খালগুলো ভরাটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি। উন্মুক্তভাবে দেশের নদী ও খালগুলো থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি বা সুযোগ থাকলে যেমন কমত কৃষিজমির মাটি বিক্রির প্রবণতা, তেমনি সরকারকেও এগুলো পুনঃখননের জন্য বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হতো না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী নূর আহমদ জানান, জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করা হলে সেই জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়, যা ফিরে আসতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগে। জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক রাখতে হলে কৃষকদের কৃষিজমির মাটি বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আসাদুল হক জানান, নদী ও খাল থেকে উন্মুক্তভাবে মাটি উত্তোলন বা ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি না থাকায় কাউকে এমন সুযোগ দেওয়া সম্ভব না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন