default-image

ভোর হতেই বৃষ্টির বাগড়া। কিন্তু তাতে কী উৎসব থেমে থাকে! অন্তত উদ্যম তারুণ্যের কাছে তো নই-ই। তাই বৃষ্টিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাজির সব প্রতিযোগী। বলছিলাম ২৫ জুন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আই-জেন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার কথা। এ দিনই সারা দেশে আই-জেনের দ্বিতীয় পর্বে জেলা পর্যায়ের আয়োজন শুরু হয়েছে।
উৎসবে নিবন্ধন পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয় প্রতিযোগিতা সম্পর্কে। কিন্তু তাঁরা যে প্রতিযোগিতার আদ্যোপান্ত সম্পর্কে ঢের ভালো জানেন, তা টুম্পা কুণ্ডুর মুখ দেখেই আঁচ করা গিয়েছিল। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমি তো পত্রিকার প্রকাশিত খবর আর ফেসবুক পেজে সব তথ্য আগেই পড়েছি।’ যেন একধাপ এগিয়ে—এই না হয় ইন্টারনেট প্রজন্ম!
এরই মধ্যে শুরু হয় ১৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরীক্ষা। সময় মাত্র ১০ মিনিট। এই চটজলদি পরীক্ষার পরই আসলে মূল প্রতিযোগিতা। কারণ এরপরই পুরো গ্রুপকে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর করতে হবে দেড় ঘণ্টার গ্রুপ টাস্ক। গ্রুপ টাস্ক হচ্ছে নির্দিষ্ট বিষয়ে দলের সব সদস্য মিলে মতামতের ভিত্তিতে একটি উপস্থাপনা তৈরি করা। যা পরবর্তী সময়ে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। পাঁচ মিনিটের উপস্থাপনায় দুই থেকে চারজন সদস্য অংশ নিতে পারেন। গ্রুপ টাস্ক সম্পর্কে হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নার্গিস হাসনাত বলেন, ‘গ্রুপ টাস্ক চলাকালে চিত্র আঁকা, ইন্টারনেট থেকে তথ্য খোঁজা ও সুন্দর করে তা পরিবেশন করাটা অনেক মজার, আমরা উপভোগ করেছি।’
তবে ইশতিয়াক আহমেদ আরেকটু গুছিয়ে বলেন, ‘গতানুগতিক মুখস্থ পড়াশোনার বাইরে এমসিকিউ, গ্রুপ টাস্ক, উপস্থাপনা ও দলগত পরিবেশনা আমাদের সৃজনশীল চর্চায় অনেক সহযোগিতা করবে।’
অনুষ্ঠানে পরীক্ষার মাঝে মাঝে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ইন্টারনেট উৎসব, ২০১৫ সালে স্কুলপর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে তিনটি ভিডিও উপস্থাপনা দেখানো হয়।
জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সারা দেশে গড়ে ১৬টি স্কুলপর্যায়ে বিজয়ী দল অংশ নেবে। এর মধ্যে নানা জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় একটি দলকে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত ২৫ জুন রাজশাহী-খুলনা অঞ্চলের জেলা পর্যায়ের আই-জেন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের ১২টি জেলার প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯২টি স্কুল জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আই-জেন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কেন্দ্রীয় দলের পাঁচজন বন্ধু এবং স্থানীয় বন্ধুসভার ১৮ জন বন্ধুর সমন্বয়ে চলছে এ আয়োজন।

default-image
default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0