পটুয়াখালী জেলার বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিরুদ্ধে এক আসামিকে ওসির কক্ষে এনে বেধড়ক মারপিটসহ শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে পুলিশের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এসেছে। এই অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আজ রোববার এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এএসপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। রিট আবেদনকারীপক্ষ ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ওই ঘটনায় আইজিপির পক্ষ থেকে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইজিপি দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে দেন। অনুসন্ধান শেষে কমিটি আইজিপির কাছে প্রতিবেদন দেয়। অনুসন্ধান প্রতিবেদনসহ আইজিপির পক্ষ থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অনুসন্ধানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এএসপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

‘বাউফলে ওসির রুমে নির্যাতন’ শিরোনামে ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, থানা হাজত থেকে এক আসামিকে ওসির রুমে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। হাফিজুর রহমান বিজয় নামের এই ব্যক্তির বাড়ি কনকদিয়া ইউনিয়নের কলতা গ্রামে। এটি যুক্ত করে বিজয়ের মা জোসনা বেগম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এএসপি মো. সাইফুল ইসলাম ও বাউফল থানার ওসি আযম খান ফারুকীকে ব্যাখ্যা জানাতে ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা ও বাউফল থানার উপপরিদর্শক মো. ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইজিপি প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়। পুলিশ প্রধানের প্রতিবেদন জমা পড়ে। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের এক আদেশে ওই এসএসপিকে ইতিমধ্যে ওখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন