default-image

৩৯তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া চিকিৎসকেরা যেন ৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ না পান, বিষয়টি দাবি জানিয়েছেন কিছু চিকিৎসক। তাঁদের দাবি, এক ব্যক্তিকে দুবার চাকরির সুযোগ না দিয়ে যোগ্য যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য সুপারিশ করুক সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।এতে চাকরিতে সমতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন ওই চিকিৎসকেরা। পিএসসি বলছে, বিষয়টি তারা দেখবে, তবে অনেক সময় তাদের কিছু করার থাকে না। আইনের বাইরে তারা যেতে পারবে না।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হয়। পরে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩৯তম বিসিএসে কেবল চিকিৎসকেরা অংশ নেন। এতে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছিল না। তাই তুলনামূলকভাবে কম সময়েই এর নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়। এই বিসিএসে প্রথম দফা প্রায় ৫ হাজার চিকিৎসক ও পরে সম্প্রতি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

চাকরি প্রার্থীরা বলেন, ৩৮তম বিসিএস সাধারণ বিসিএস। এতে সবার সঙ্গে চিকিৎসকেরাও অংশ নেন। এতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা নেওয়া হয় বলে এখনো এর ফল প্রকাশ হয়নি। তাঁরা বলেন, ৩৮তম বিসিএসে চিকিৎসকদের পদ আছে ২২০টি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ভাইভা দিয়েছেন। এখান থেকে প্রায় ৩০০ জনের চাকরি হয়েছে ৩৯তম বিসিএসে। ওই ৩০০ জনের জন্য যদি পুনরায় সুপরিশ করা না হয়, তাহলে ৩৮তম বিসিএসে চাকরি না পাওয়া সব চিকিৎসকই চাকরি পাবেন।

চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা ৩৯তম বিসিএসে ক্যাডার হয়েছেন, আবার ৩৮তম বিসিএসে পরীক্ষা দিয়েছেন। ওই প্রার্থীদের অনেকে ৩৮তম বিসিএসে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাঁরা চাকরি পেলে চাকরি না পাওয়া অনেকে বঞ্চিত হবেন। একই ব্যক্তি তো দুটি চাকরি করতে পারবেন না। তাই মানবিক অবস্থা বিবেচনা করে চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার আবেদন তাঁদের। এ ক্ষেত্রে পিএসসি যদি চাকরি পাওয়া ব্যক্তির নাম আর সুপারিশ না করে, তাহলে অনেকের চাকরি পাওয়া সহজ হবে।

৩৮তম বিসিএসে ভাইভা দেওয়া এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমি ৩৯তম বিসিএসে পাস করেছি, কিন্তু ক্যাডারপ্রাপ্ত নই এবং ৩৮তম বিসিএসের ভাইভা দিয়েছি।’

ওই চিকিৎসকের তথ্যমতে, ৩৯তম বিসিএস চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএস হওয়ার কারণে ৩৮তম বিসিএসের প্রায় সবাই ৩৯তম বিসিএসে অংশ নিয়েছেন। এর ফলাফল আগে বের হয়েছে। এখানে প্রায় ৩০০ জন ক্যাডার পদে সুপারিশ পেয়েছেন, যাঁরা আবার ৩৮তম পরীক্ষায় ভাইভা দিয়েছেন।

চিকিৎসকের ভাষ্য, ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলাফল বের হলে দেখা যাবে, ৩৯তম বিসিএসে ক্যাডার পাওয়া ব্যক্তিরাও ৩৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এতে একই ব্যক্তি দুই বিসিএসে চাকরি পাবেন। কিন্তু একজন তো দুই চাকরি করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতি হলে চাকরি পাওয়ার যোগ্য হয়েও ৩৮তম বিসিএসে অনেকে চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এখানে পিএসসি যদি মানবিক হয়, তাহলে একই ব্যক্তি যেমন একাধিক চাকরি পাবেন না, তেমনি চাকরি না থাকা অনেকেই চাকরি পেতে পারেন।

আরেক প্রার্থী বলেন, ‘৩৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদ আছে মাত্র ২২০টি। যদি দুবার সুপারিশ করা হয়, তাহলে অনেকে দুবার ক্যাডার পাবেন। আর কেউ ক্যাডার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে পদগুলোও নষ্ট হবে। যদি ক্যাডার বঞ্চিত ১০০ জনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্র আরও ১০০ জন চিকিৎসক পাবে, আমরাও আলোর মুখ দেখব।’

অন্য এক প্রার্থী বলেন, ‘আগামী বছর আমার চাকরির বয়স শেষ। এরপর কোনো বিসিএস দিতে পারব না। যদি পিএসসি আমাদের সাহায্য করে, তাহলে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’

এ ব্যাপারে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব। কীভাবে করলে ভালো হয় বা মানবিক হয়, সেটি আমাদের চিন্তায় রয়েছে। তবে এটাও ঠিক, পিএসসি আইনের বাইরে কিছু করতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0