বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করে বছরে ‘১৫ বিলিয়ন’ ডলার আয় করার কথা তুলে ধরেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁরা কেন এ রকম জীবন কাটাচ্ছেন, সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা ঝাড়ুদার তৈরি করছি। এটা কোনো কথা হলো? একটা জাতি কি সারা জীবন নির্মাণশ্রমিক তৈরি করবে? শার্ট আর সোয়েটার তৈরি করবে সমস্ত জীবন? উচ্চ প্রযুক্তি কোথায় গেল আমাদের?’
একসময় চীন এসব কাজ করলেও তারা এখন সেই জায়গায় নেই উল্লেখ করে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘চীন তো এখন সারা পৃথিবীকে প্রযুক্তির খেলা দেখাচ্ছে। তারা কি আমাদের থেকে খুব এগিয়ে ছিল একসময়? দক্ষিণ কোরিয়া কি আমাদের থেকে বেশি এগিয়ে ছিল? কখনো না। অথচ এক স্যামসাং যত টাকা ইনকাম করে, আমাদের সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের কয়েক গুণ বেশি আয় করে স্যামসাং ফোন থেকে। এই স্যামসাং ফোনটা তো আমরাও করতে পারতাম। পারতাম যদি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা গতিশীলভাবে করা যেত। যেখানে বিজ্ঞানীদের কদর ছিল একসময়। এখন আমাদের বিজ্ঞানীদের কদর নেই।’

ইংরেজির অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যের দিকগুলোও তুলে ধরেন। প্রকৌশল ও চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার পর অনেকে সরকারি চাকরি নিয়ে অন্য পেশায় চলে যান। এর মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজ ওই সব বিশেষ জ্ঞান অর্জনকারী ব্যক্তিদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা তুলে ধরেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন প্রচুর ডাক্তার। আমি তাঁদের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। কিন্তু একজন ডাক্তার তৈরির পেছনে সমাজের, এই কৃষকের, শ্রমিকের কয়েক লাখ টাকা চলে যায়। একজন পররাষ্ট্র কর্তা হয়ে তিনি কি সেই টাকাটা ফেরত দিতে পারছেন? যদি পারেন, অত্যন্ত ভালো। যাঁরা পারেন, তাঁদের অত্যন্ত মাথায় তুলে রাখব। যদি না হয়, তাহলে তো এই টাকাটা অপচয় হলো। একজন ডাক্তার তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই সমাজে।’

চাকরি একজন মানুষের প্রধান বিবেচনা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে পারতাম, শিক্ষকদের আমরা এতখানি গুরুত্ব দিতে পারতাম, এতখানি অবস্থানে নিতে পারতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে। তাহলে আমরা মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারতাম। মেধাবী প্রজন্মের একটা সুবিধা আছে। তারা নিজেদের মতো করে ভাবে, নিজেদের মতো করে চিন্তা করে এবং পথ আবিষ্কার করে। আমরা যে শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছি, যে সমাজব্যবস্থা তৈরি করেছি, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে পেছনযাত্রা হয়েছে। তাতে একজন প্রকৌশলী চাকরি না পেয়ে অবশ্যই সরকারি চাকরি নিতেই পারেন। তিনি সততার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি দিনের শেষে শান্তি পাবেন, আমি অন্তত সৎভাবে কাজটা করছি। এ রকম প্রচুর মানুষ কাজ করছেন। তাঁদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করলাম। যেখানে একজন প্রকৌশলীকে তাঁর পেশা বদল করতে হয়। একজন বিজ্ঞানী তাঁর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কেন চাকরি খুঁজে পাবেন না।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু কম্পিউটার টেকনোলজি যদি কেউ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন, কমিউনিকেশন টেকনোলজি যদি আয়ত্ত করতে পারেন, সেখান থেকে আমরা আয় করতে পারি। আমরা যদি হাই টেকনোলজির বিষয় উৎপাদন করতে পারি, তাহলে সেটাও আমাদের পক্ষে বিশাল কাজ হবে। আমি হিসাব করে দেখেছি, আমরা যেসব জিনিসপত্র ইমপোর্ট করি, এই যে কম্পিউটার, এই যে মোবাইল, এগুলো আমরা চেষ্টা করলে আমরা দেশেই তৈরি করতে পারতাম। সেই মেধার সম্মেলন যদি আমরা ঘটাতে পারতাম। এখানে তো কয়েক বিলিয়ন ডলার চলে যায়। আমরা তো সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন