একটি সেতুর অভাবে পাঁচ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে

বিজ্ঞাপন
default-image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীর ভান্ডারখালে সেতু না থাকায় স্থানীয় পাঁচ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব গ্রামবাসী চাঁদা তুলে ওই খালে বাঁশের একটি সাঁকো তৈরি করে নিয়েছে। প্রতিবছর চাঁদা তুলে সেটি মেরামতও করেন। বর্তমানে এ সাঁকোটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসী জানান, উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টাকাটুকিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ভান্ডারখালে চার বছর ধরে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করে চলাচল করছে মানুষ। সাঁকো নির্মাণের জন্য টাকাটুকিয়া, রসুলপুর, টুকেরগাঁও, খাসপাড়া, গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষজনকে প্রতিবছর চাঁদা তুলতে হয়। এর আগে এখানে নৌকা দিয়ে লোকজন পারাপার হতো। এই সাঁকো পার হয়েই পাঁচ গ্রামের মানুষদের উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। একই সঙ্গে এসব গ্রামের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্থানীয় জয়নাল আবেদীন মহাবিদ্যালয়, উপজেলার সদরের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা এবং এলাকার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে। এখন সাঁকোটির কয়েকটি স্থান নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। প্রতিবছর সাঁকো তৈরি করতে গ্রামবাসীর ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানায় সূত্রটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভান্ডারখালের পশ্চিম পারে টাকাটুকিয়া গ্রাম ও টাকাটুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পাশেই খালের ওপর বাঁশের সাঁকো। খালের পূর্ব পারে রসুলপুর, টুকেরগাঁও, গোবিন্দপুর ও খাসপাড়া গ্রাম।

রসুলপুর গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, পাঁচ গ্রামের মানুষ এখানে সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। এই সড়ক দিয়েই উপজেলা সদরে যাতায়াত করে লোকজন। আর কোনো বিকল্প সড়ক নেই।

গ্রামের কলেজছাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সেতু নির্মাণের জন্য এলাকার সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সবার কাছে দাবি জানিয়েছি। ৬ জুলাই এলাকার সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তাহিরপুরে এলে পাঁচগ্রামের মানুষ দেখা করে আবার দাবি জানায়। তিনিও সেতু নির্মাণের বিষয়ে সবাইকে আশ্বাস দিয়েছেন।’

রসুলপুর গ্রামের আবদুস ছাত্তার, টুকেরগাঁও গ্রামের আবদুল হাদিস বলেন, সেতুর জন্য দুবার উপজেলা থেকে লোকজন এসে জায়গাটি দেখে গেছে। কিন্তু পরে আর কোনো কাজ হয়নি।

জয়নাল আবেদীন মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝর্ণা খাতুন ও লায়লা বেগম জানায়, ওই খাল দিয়ে নৌকা চলাচলের সুবিধার্থে সাঁকোটি উঁচু করে বানানো হয়। এখন সাঁকোর মাঝখানটা নড়বড়ে হয়ে আছে। পার হতে খুব ভয় হয়।

টাকাটুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনদা গাঙ্গুলি বলেন, ‘শিশুরা সাঁকো পার হওয়ার সময় কখন খালে পড়ে যায়, এই নিয়ে চিন্তায় থাকি।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘এখানে একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে আবার কথা বলব।’

তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এখানে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব এক বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আছে। কিন্তু সেটির কোনো অগ্রগতি নেই। এখন সেটি কোন পর্যায়ে আছে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন