default-image

একুশের প্রথম প্রহরে জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তির শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নামে বাঁধভাঙা স্রোত। হাজারো মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেন ভাষাশহীদদের।
রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পরই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানান। শেখ হাসিনা পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আরও দুবার শহীদ মিনারে ফুল দেন।
প্রধানমন্ত্রীর পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের স্পিকার রাইট ব্যারোনেস ডি সুজা, সফরসঙ্গীদের নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রিপরিষদ, ১৪ দল, রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, ইন্টার পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সাবের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, অ্যাটর্নি জেনারেল, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এর পরই শহীদ মিনারে বাঁধভাঙা মানুষের স্রোত নামে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিকেরা ফুল দিয়ে বায়ান্নর ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন। মাইকে বাজতে থাকে অমর একুশের গানের করুণ সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’। ধারাভাষ্যকারেরা অবিরাম কবিতার পঙ্ক্তিমালা আবৃত্তি করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও একুশের প্রথম প্রহরে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে উঠেছিল দেশের মানুষ। আজিমপুর মোড় থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘ সারি। যেন শহরের সব পথ এসে মিলেছে এখানে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন