বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোট গ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশনাগুলো এসেছে হুমাইপুর ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী সভা থেকে। সভাটি হয় গত শুক্রবার বিকেলে হুমাইপুর ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা মাঠে। আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন সভার প্রধান অতিথি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান। আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্যসংবলিত ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে আওয়ামী লীগ নেতার প্রকাশ্য এমন বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছেন অন্য প্রার্থীরা। মো. মানিক মিয়া হুমাইপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার তিনি লড়ছেন স্বতন্ত্র হয়ে।

default-image

আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে মানিক মিয়া বলেন, ‘ভোট যদি কাইত্যার তলে না হয়ে হয় টেবিলের ওপর, তাহলে ঘটা করে ভোটের আয়োজন করে কী লাভ? নির্বাচন কর্মকর্তাদের উচিত এখনই নৌকাকে জয়ী করে গেজেট প্রকাশ করা। আর একে-৪৭ নিয়ে এলে তো কেন্দ্রে ভোটার থাকবে না, থাকবেন কেবল ওই আওয়ামী লীগ নেতা।’
শুক্রবারের জনসভায় আওয়ামী লীগের ওই নেতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের উদ্দেশে নানা মন্তব্য করে গেছেন। ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘মেম্বার প্রার্থীর জন্য একটাই কথা, নৌকার বাইরে কাউকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। নৌকার ভোট হবে এই টেবিলের ওপর, ওপেন। আপনারা যাঁরা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মেম্বার প্রার্থী হয়েছেন, জয়ের জন্য চেষ্টা করেন। আপত্তি নেই। কিন্তু আপনাদের এজেন্টদের বলে দেবেন নৌকার ভোট কাইত্যার তলে হবে না। নৌকার ভোট হবে টেবিলের সামনে, সবার সামনে। এখানে যদি কোনো এজেন্ট বা মেম্বার প্রার্থী বিরোধিতা করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে বের করে দিব।’

প্রার্থীদের আবার সতর্ক করে ওই নেতা বলেন, ‘আমরা শুধু হুমাইপুরের জনগণের শক্তি নিয়ে ওই দিন আসব না। শুধু একে-৪৭ নয়, প্রয়োজনে যা করা দরকার সবই করব।’ কর্মী-সমর্থকদের অভয় দিয়ে ওই নেতা বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের। পুলিশ আমাদের। সরকার আমাদের।’ এ সময় তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আর কিছু বলার দরকার আছে, ভাই?’ পরে বলেন, ‘এমপির চোখ লাল হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের চোখ লাল হয়ে আছে।’

নির্বাচন উপলক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বর্তমান চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, বিএনপি নেতা কাইয়ুম খান হেলাল ও জয়নাল খানকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। আর বলেন, ‘আমরা কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করব না। হয়রানি করব যাঁরা সহজ-সরল মানুষকে নিয়ে ব্যবসা করেন, তাঁদের।’ তিনি যা বলেছেন, তাতে সাংসদের ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানান।

আবদুল্লাহ আল মামুন বাজিতপুরের সাচ্চু হত্যা মামলার আসামি। সম্প্রতি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পিবিআই। অভিযোগপত্রে আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম রয়েছে। পিবিআই তাঁকে গত বছরের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে। প্রায় চার মাস জেল খেটে এখন তিনি জামিনে আছেন।

জনসভায় এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে গতকাল শনিবার মুঠোফোনে আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরও হুমাইপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ স্বাধীনতার বিপক্ষে এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আমরা কোনোভাবেই এগোতে পারি না।’ তিনি নিজেও একে-৪৭-এর ভয় দেখিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে একে-৪৭-এর ভয় দেখাচ্ছেন। মূলত কর্মী-সমর্থকদের মন থেকে ভয় দূর করার জন্য সভায় ওই সব কথা বলেছেন। বাস্তবে এর প্রয়োগ করবেন না বলে জানিয়েছেন এই নেতা।

default-image

আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে কথা হয় কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সাংসদ আফজাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমত হুমাইপুরের জনসভার বিষয়ে তেমন কিছু আমার জানা নেই। আর আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্যের বিষয়ে আমার কোনো ইঙ্গিত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।’
আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্যের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে কেউ অভিযোগ করলে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে অভিযোগটি ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠাবেন।

কালকিনিতে যুবলীগ নেতার হুঁশিয়ারি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ভোট দিলে কারও বেঁচে থাকার অধিকার নেই বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মোল্লা। গত শুক্রবার রাতে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সূর্যমণি বাজারে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

যুবলীগ নেতা আফজাল হোসেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান মোল্লার ভাতিজা। আফজাল হোসেন বলেন, ‘আবদুস সোবহান গোলাপ (মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ) এত নরম না। সে রোববার থেকে স্টিম রোলার চালাতে বলবে, আপনারা (নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা) চালাবেন। আর আমি থাকব আমার কাছে দুইডা অস্ত্র লইয়া। দুইডা অস্ত্র লইয়া আমি থাকমু, কারও বাপ-পুত থাকলে আমার সামনে জানি আসে। দয়া কইরা নৌকার বিরুদ্ধে কেউ যাইয়েন না। নৌকার বিরুদ্ধে গেলে কারও বাঁচন নাই।’

ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রচারণা কতটুকু যৌক্তিক—জানতে চাইলে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমি নৌকার পক্ষে কথা বলেছি। হুমকি দেওয়া হয়েছে যাঁরা নৌকাকে নিয়ে কটূক্তি করে কথা বলেন, সেখানে কি দুই-চারটা কথা আসবে না! সেই সূত্রে কিছু কথা বলেছি।’

জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটা আমি দেখেছি। পথসভায় এভাবে হুমকিমূলক ও উসকানিমূলক কথা বলা সম্পূর্ণ আচরণবিধি লঙ্ঘন।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন